মোঃ আব্দুল কাইয়ুম, মৌলভীবাজার : বিশাল অঙ্কের লোকশানের মুখে প্রায় ১৯দিন পর চলমান আন্দোলনের সমাপ্তি হতে চলেছে দেশের সম্ভাবনাময় চা শিল্পে। গত তিনদিন যাবত চা শ্রমিকরা অধির আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলেন সরকার প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষনার দিকে। অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণের সমাপ্তি হলো। শনিবার বিকালে গণভবনে দেশের চা বাগান মালিকদের সাথে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পর ঘোষণা আসে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক নির্ধারিত ১৭০ টাকা দৈনিক মজুরির বিষয়টি। এই ঘোষণা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে শ্রমিকদের কাছে। এর পর পরই প্রতিক্রিয়া আসতে থাকে চা শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছ খেকে।

শনিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন (বাচাশ্রই) এর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন দাস তার প্রতিক্রিয়ায় জানান,প্রধানমন্ত্রীর ১৭০ টাকা দৈনিক মজুরি ঘোষণায় খুশি চা শ্রমিকরা। তারা রবিবার থেকে কাজে ফিরবেন।

তিনি বলেন, শনিবার বিকালে গণভবনে চা বাগান মালিকপক্ষের সাথে বৈঠকের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের চা শ্রমিকদের সবদিক বিবেচনা করে দৈনিক মজুরি ১২০টা থেকে ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১৭০টাকা নির্ধারণ করায় আমরা আনন্দিত। আমাদের বিশ্বাস ছিল, আস্থা ছিল যে তিনি আমাদের কখনো আশাহত করবেন না। আমরা তাঁর এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট।

সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, কিছু কিছু চা বাগানে রবিবার থেকেই শ্রমিকরা কাজে যোগাদান করবেন। দেশের নিবন্ধিত ১৮৭টি বাগানসহ আমাদের বাগান পঞ্চায়েত কমিটির কর্তৃক নির্বাচিত ফাঁড়ি বাগানসহ মোট ২৩২টি বাগানের কিছু কিছু বাগানে রবিবার থেকেই শ্রমিকরা হয়তো কাজে যাবেন।

ভাড়াউড়া চা বাগানের নারী চা শ্রমিক লক্ষ্মীগড় আঞ্চলিক নৃ-ভাষায় আনন্দের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমরার মাই-বাবা। তার মতামতের উপর কোনো কথা আমরার নাই আছে। আমরা বহুত খুশি আছি।’

চা বাগানের সর্দার জয় নায়ায়ন জেনা তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমাদের অনেক দিন বাগান বন্ধ গেছে। রবিবার চা বাগানে সাপ্তাহিক ছুটি। এখন যদি বাগান কর্তৃপক্ষ আমাদের বলে যে, তোমরা ক্যাশ প্লাকিং (নগদে পাতা উত্তোলন) করো তবে আমরা কাজে ফিরে যাবো। ১২০ টাকা দৈনিক মজুরিতে ক্যাশ প্লাকিং ছিল কেজি প্রতি ৪টাকা ৫০ পঞ্চাশ পয়সা। এখন তো ১৭০টাকা মজুরি নির্ধারিত হলো। এখন ক্যাশ প্লাকিং কেজি প্রতি কত পড়বে তা আগে নির্ধারিত হোক।

ফুলছড়া চা বাগানের বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি জগৎবন্ধু রায় ঘাটোয়াল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত দৈনিক ১৭০ টাকা মজুরিতে আমরা আনন্দিত। আমরা রবিবার আমাদের বন্ধের দিনেও কাজে যেতে চাই। তবে এজন্য আমাদের চা বাগানের বড় সাহেবের (ম্যানেজার) অনুমতির প্রয়োজন।

(একে/এএস/আগস্ট ২৭, ২০২২)