আনন্দে মেতে উঠবে গোটা দেশ, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
প্রসেনজিৎ বিশ্বাস, নগরকান্দা : ফরিদপুর নগরকান্দা উপজেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সব থেকে বড় ধর্মীয় উৎসব (দূর্গাপূজা) কে কেন্দ্র করে উপজেলায় সর্বমোট ৬৬ টি মন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। আগামী ২৫শে সেপ্টেম্বর রবিবার বাংলা কলেন্ডার অনুযায়ী ৮ আশ্বিন মহালয়ার মধ্যে দিয়ে শারদীয় দূর্গাৎসব শুরু হবে উপজেলার অধিকাংশ মন্দিরে চলছে তারই প্রস্তুতি।কারিগরেরা ব্যস্ত সময় পার করছে প্রতিমার সৌন্দর্য বর্ধনে।
দূর্গা পূজার বাকি মাত্র ২০দিন। তাই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিমা কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করছে। দুর্গোৎসবকে পরিপূর্ণভাবে সাজাতে মন্দিরগুলোতে দিনরাত মিলিয়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। পৌরসভার মন্দির গুলোতে চলছে প্রতিমা তৈরীর ধূম।
সরজমিনে রবিবার দুপুরে পুরাপাড়া ,চরযোশরদী,তালমা, রামদিয়া বিভিন্ন ইউনিয়নে ঘুরে দেখা যায় অধিকাংশ মন্দির গুলোতে মায়ের আগমন উপলক্ষে ইতিমধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। বাকি আছে রং তুলির আঁচড় লাগানোর কাজ। এদিকে কলেজ বালিয়া সার্বজনিন পূজা মন্ডপের সভাপতি গোকুল চন্দ্র মন্ডল দৈনিক বাংলা ৭১ কে বলেন গত বছরের তুলনায় এবার থাকছে নতুনের ছোঁয়া, স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজন করা।
নীল কমল মন্ডল (৬৫)(প্রতিমা শিল্পী)কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,গত বছরের আমি পাঁচ টি প্রতিমা তৈরির করেছি এ বছর চারটি শারীরিক ভাবে আর পারছি না । এই কাজে সবাই আসতে চায় না, সবকিছুর দাম বাড়লেও আগের ভাবেই কাজ করতে হচ্ছে।তবে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হবে বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে ঘোনাপাড়া মন্দিরের কারিগর গৌর মন্ডল বলেন, বছরের সব সময় কাজ থাকে না তাই অধিকাংশ সময় বেকার থাকতে হয়। কিন্তু এখন দুর্গাপূজা উপলক্ষে কাজের চাপ বেশি তাই রাত দিন পরিশ্রম করে মনের মাধুরী মিশিয়ে মা দুর্গার প্রতিমা তৈরি করছি। আর কয়েকদিন পর প্রতিমা রং করা হবে। তবে কাঠ, সুতা, খড়, রং, কাপড় ও মুকুট দিয়ে এক সেট তৈরি করতে সময় লাগে ৮/১০ দিন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নগরকান্দা উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে দৈনিক বাংলা ৭১ কে জানান এ বছরের গত বছরের তুলনায় তিনটি পূজা বাড়তে পারে।
এ সময় বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট নগরকান্দা উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে বিভিন্ন মন্দিরে সাত্ত্বিক প্রতিমা তৈরিতে ছিল ব্যপক প্রচার প্রচারণা যা ছিল চোখে পড়ার মতো।
শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তার বিষয়ে নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাবিল হোসেন দৈনিক বাংলা ৭১ কে বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মন্ডপগুলোকে যেন কোন ধরণের অপ্রতীকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য আমরা সর্বদা সজাগ রয়েছি। সকল সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে তাদের উৎসব পালন করতে পারে সে বিষয়ে সকল প্রকার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এছাড়া দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন ও সার্বক্ষনিক নিরাপত্তায় থাকবে যাতে পূর্বের ন্যায় এবারো কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
(পিবি/এসপি/সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২২)
