কাজী হাসান ফিরোজ, বোয়ালমারী : গত ১১ সপ্টেম্বর জাতীয় দৈনিক বাংলা ৭১ পত্রিকায় " বোয়ালমারীতে মাদরাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ, শিক্ষক পলাতক " শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের নায়ক সেই মাদরাসা শিক্ষক অবশেষে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে।

প্রকাশিত সংবাদের পূর্বসূত্র মতে, ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে এক কওমী মাদ্রাসার ছাত্রকে বলৎকারের ঘটনায় মাদ্রাসার প্রিন্সিপালের নামে বলাৎকারের মামলা হয়। বলাৎকারের শিকার ওই ছাত্রের (১২) বাবা ইমরান মোল্যা বাদি হয়ে রবিবার দিবাগত রাতে মামলাটি করেন। মামলার আসামি মাওলানা আরিফ বিল্লাহকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার শিকারপুর গ্রামের মো. আকবারের ছেলে মো. আরিফ বিল্লাহ গত কয়েক মাস আগে বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়নের বারাংকুলা এমদাদিয়া কাসেমুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানায় চাকরি নেন। তিনি ওই এলাকার চরদিঘিরপাড় জামে মসজিদে ইমামতিও করেন। আরিফ বিল্লাহর বিরুদ্ধে চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল (রমজান মাসে) মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র মাহিদুল ইসলাম (১২) নামে ওই ছাত্রকে বলৎকারের অভিযোগ উঠে। এ ঘটনার পর গত ১ আগস্ট চরদিঘিরপাড় মসজিদের ভেতরে হুজুরের সাথে ঘুমানোর কথা বলে ডেকে নিয়ে ওই ছাত্রকে পুনরায় বলৎকার করে আরিফ বিল্লাহ।

সম্প্রতি বলৎকারের ঘটনাটি ওই ছাত্র বাড়িতে এসে অভিভাবকদের কাছে ফাঁস করলে এলাকায় আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানির পর গত ৮ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত শিক্ষক পালিয়ে যায়। এ নিয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর উপজেলার বড়গা বাজারের ব্যবসায়ি সহিদুল ইসলামের ঘরে স্থানীয় গন্যমান্যদের উপস্থিতিতে শালিস বৈঠকের কথা হয়। কিন্তু আরিফ বিল্লাহ শালিস বৈঠকে উপস্থিত না হওয়ায় রবিবার দিবাগত রাতে বলাৎকারের শিকার মাহিদুল ইসলামের (১২) বাবা ইমরান মোল্যা বাদি হয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ এনে মামলা করেন। মামলা নম্বর ১৩।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে থানা অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আব্দুল ওহাব বলেন, মাদরাসা ছাত্রকে বলৎকারের ঘটনায় ওই ছাত্রর বাবা বাদি হয়ে মামলা করেছেন। মামলার পর আসামিকে গ্রেপ্তার করে ফরিদপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ছাত্রকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির জন্য ফরিদপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

(কেএফ/এসপি/সেপ্টেম্বর ১২, ২০২২)