দিলীপ চন্দ, ফরিদপুর : ফরিদপুরের ভাঙ্গায় কুমার নদে এবারো হলো না ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ, তবে প্রতি বছরের ন্যায় বসেছে আড়ং (মেলা), নদের ভিতর ইঞ্জিন চালিত নৌকা ও স্পীড বোট। বাংলা পঞ্জিকা হিসাব অনুযায়ী ভাদ্র মাসের সাকরাইনে (মাসের শেষ দিন) হিন্দু দেবতা বিশ্বকর্মার পূজায় অনুষ্ঠিত হয় এই ঐত্যিবাহী নৌকা বাইচ। যুগের পর যুগ ধরে চলে আশা এই নৌকা বাইচ দলমত নির্বীশেষে হয়ে উঠতো আনন্দ ও ঐতিহ্যের।

কিন্তু হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে গেলো ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। মূলত রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘর্ষেরে কারনে বন্ধ হলো ঐত্যিবাহী নৌকা বাইচ। সর্বশেষ আন্তর্জাতিক খ্যাতিস্মপূর্ণ চলচিত্রকর তারেক মাসুদের প্রচেষ্টায় ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত হয় ঐত্যিবাহী নৌকা বাইচ। টং! টং! ট! আওয়াজে মুখরিত হয় নদীর দুই পারের মানুষ। হরেক রকমের সৌখিন সাজে সাজিয়ে আনা হতো নৌকা।

এছাড়াও ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ উপলক্ষে প্রতি বছর হরেক রকমের মুখে রচক খাবারের দোকান ও শিশুদের খেলনা সামগ্রীর দোকান পশরা বসে। এই আড়ং (মেলায়) পাওয়া যায় বিন্নি ধানের খৈ সহ কয়েক রকমের খৈ এছাড়া দানাদার মিষ্টি সহ কয়েক প্রকার মিষ্টি। কথিত আছে বর্ষার পানি নামানোর জন্য নৌকা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হতো, নৌকার বৈঠার বারিতে বর্ষা শেষ হতো। তবে কখন এই নৌকা বাইচের আয়োজন করেছেন তা যানাযায়নি। মূলত বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল নিচু এলাকা হবার কারনে খুব দ্রুত বর্ষায় প্লাবিত হতো গোটা অঞ্চল।

প্রসঙ্গত, ভাঙ্গায় কুমার নদে অনুষ্ঠিত নৌকা বাইচে অংশগ্রহনকরী নৌকা গুলী সাজ মনমুগদ্ধকর ও দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সুন্দর।

(ডিসি/এসপি/সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২২)