জেলা পরিষদ নির্বাচন
ফরিদপুরে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৪ জন
দিলীপ চন্দ, ফরিদপুর : জেলা পরিষদ নির্বাচনের মনােনয়নপত্র জমা দানের শেষ দিনে ফরিদপুরে উৎসবমূখর পরিবেশে মনােনয়ন জমা দিয়েছে প্রার্থীরা। এতে চেয়ারম্যান পদে মনানয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৪ জন প্রার্থী। তারা আশা করছেন, অন্যবারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীহীনভাবে নয় বরং এবার নির্বাচনের মাধ্যমেই জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বার নির্বাচিত হবে।
ফরিদপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মােহাম্মাদ হাবিবুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার(১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২ টা পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদে ৪ জন, সাধারণ সদস্য পদে ৪৪ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১২ জন মনােনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
এদের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনােনয়নপত্র জমা দিয়েছেন যুবলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম মেম্বার মাে. ফারুক হােসেন। এছাড়া যুবলীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক শাহাদত হােসেন এবং আব্দুল আজিজ নামে অবসরপ্রাপ্ত একজন কলেজ শিক্ষক, মোহাম্মদ নুর ইসলাম শিকদার চেয়ারম্যান পদে মনােনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার(১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার অতুল সরকারের নিকট মনোনয়নপত্র জমা দেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মো. ফারুক হোসেন। এসময় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক, সাধারণ সম্পাদক এসএম ইশতিয়াক আরিফ সহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা এসময় উপস্থিত ছিলেন। শহরের রাসেল স্কয়ার থেকে নেতাকর্মীদের মিছিল সহকারে নেতৃবৃন্দ সেখানে উপস্থিত হন।
এর আগে সেখানে কর্মী সমর্থকদের নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন যুবলীগের অর্থ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন। এসময় ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসনের উপজেলা ও ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বার ও নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল আলােচনা ও উত্তেজনা চলছে। একাধিক প্রার্থী সাংবাদিকদের জানান, গত দুইবারে ফরিদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে একাধিক প্রার্থীদের মাঝে প্রতিদ্বন্দ্বিমুলক কােন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ মনােনিত প্রার্থীর বাইরে অন্য কেউ মনােনয়নপত্র জমা দেয়ার পরেও শেষে প্রত্যাহার করতে হয়েছে। তবে এবার একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতামুলক নির্বাচন হবে বলে তারা মনে করছেন।
এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে মনােনয়নপত্র জমাদানকারী শাহাদাত হােসেন বলেন, বিগত দিনে ভােটাররা ভােট দিতে পারেননি। এবার ভােটারদের ভােটাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্যই তিনি প্রার্থী হয়েছেন।
অপরদিকে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ফারুক হােসেন বলেন, আওয়ামী লীগ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনােনীত প্রার্থীর বাইরে গিয়ে দলীয় কারো নির্বাচন করা যাবেনা। আমি আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী। দলের পদে থেকে বিদ্রােহী প্রার্থী হিসেবে যারা মনােনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তাদের বিষয়ে দল সিদ্ধান্ত নিবে।
দেশের তিনটি পার্বত্য জেলা ব্যতিত ৬১টি জেলা পরিষদে ১৭ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর মনােনয়নপত্র যাচাইবাছাই এবং ২৫ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন।
(ডিসি/এসপি/সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২২)
