প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
স্পোর্টসে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা
তুষার কান্তি বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানে এলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও গোপালগঞ্জ জেলা পষিদ চেয়ারম্যান এ্যাড মুন্সি মোঃ আতিয়ার রহমান। তাকে উত্তরীয় পড়িয়ে, ক্রেস্ট, ফুল ও উপহার সামগ্রী দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। গোপালগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ শহরের এসএম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানে আজ বুধবার সকালে তাঁকে সম্বর্ধণা প্রদান করে সম্মানিত করা হয়। এতে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড মুন্সি মোঃ আতিয়ার রহমান অভিভূত হয়েছেন। আর স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে সম্মানিত করে গর্বিত হয়েছে।
বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানে এমই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মাধ্যমে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্বর্ধণা প্রদান করা হয়।
এরআগে ওই বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড. মুন্সি মোঃ আতিয়ার রহমান।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ মহিদুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ খান ও জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিটু। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুরইয়া খানম।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ১৭টি ইভেন্টে বিদ্যালয়ের ৩০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। পরে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুরইয়া খানম বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে যুদ্ধ করে আমাদের জন্য একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছেন। সম্বর্ধণা অনুষ্ঠানে তিনি বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। তার কাছ থেকে আমাদের কোমলমতি শিশুরা মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনেছে। তারা বঙ্গবন্ধু,মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ সৃষ্টির কথা জানতে পেরেছে। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্মগাথা তুলে ধরতেই আমাদের এই আয়োজন। এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্বর্ধণা প্রদান করে আমরা গর্বিত।
আমরা অনেক আগে থেকেই স্পোর্টসের দিনে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্বর্ধণার রীতি শুরু করে ছিলাম। বিগত ২ বছর করনার কারণে এটি বন্ধ ছিল। এই বছর থেকে আমার আবার এটি শুরু করলাম।
বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড. মুন্সি মো. আতিয়ার রহমান বলেন, আমাকে স্কুল কর্তৃপক্ষ সম্বর্ধণা দিয়ে সম্মানিত করেছেন। এইজন্য আমি অভিভূত। আমি নতুন প্রজম্মের সামনে বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ সৃষ্টি ও মুক্তিযুদ্ধে আমাদের সাহসী যুদ্ধের বর্নণা দিয়েছি। শিশুরা আগ্রহভরে আমার কথা শুনেছে। এরাই ভবিষ্যতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বড় হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।
অভিভাবক সঞ্জয় বিশ^াস বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা হচ্ছেন জাতির সূর্য্য সন্তান । তাদের এইভাবে সম্মানিত করে শিশুদের সামনে মুক্তিযুদ্ধের গল্প চমৎকারভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করতে এটি একটি সুদূর প্রসারী উদ্যোগ। এই উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই।
(টিকেবি/এসপি/ফেব্রুয়ারি ০১, ২০১৩)
