স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছে ৩ ছাত্রী
গোপালগঞ্জে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জে চিন্ময় বসু নামে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় ৫ম শ্রেণির ৩ ছাত্রী স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক সহ এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ওই শিক্ষকের শাস্তি দাবি করেছেন। পক্ষান্তরে এই অভিযোগ উঠার পর গত ১১ মে অভিযুক্ত শিক্ষক ৩ দিনের ছুটিতে যান। গত রোববার তার স্কুলে যোগদান করার কথা ছিল। কিন্তু ওই শিক্ষক আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত স্কুলে অনুপস্থিত রয়েছেন।
চিন্ময় বসু কোটালীপাড়া উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের ৯৭নং কান্দি বানিয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি একই উপজেলার কলাবাড়ি ইউনিয়নের কুমুরিয়া গ্রামের চন্দ্রকান্ত বসুর ছেলে।
অভিযোগ উঠেছে , চিন্ময় বসু নামে ওই শিক্ষক প্রতিনিয়ত শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময় পঞ্চম শ্রেণির ৩ ছাত্রীকে কাছে ডেকে নিয়ে তাদের শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিতেন। ইভটিজিং এর শিকার ওই ছাত্রীরা বিষয়টি অভিভাক, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিখা হালদারসহ অন্যান্য শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রাবেয়া সুলতানাকে জানায়। প্রধান শিক্ষক শিখা হালদার শিক্ষক চিন্ময় বসুকে রক্ষার জন্য তারিঘড়ি করে তাকে ৩ দিনের ছুটি দিয়ে দেন।
এ দিকে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক চিন্ময় বসুর অনৈতিক আচরণে পঞ্চম শ্রেণির ৩ ছাত্রী বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। শিক্ষক চিন্ময় বসু এই বিদ্যালয়ে থাকলে ৩ ছাত্রীর অভিভাবক মেয়েদের বিদ্যালয় পাঠাবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পঞ্চম শ্রেণির এক মেধাবী ছাত্রী বলেন, শিক্ষক চিন্ময় বসু প্রতিদিন পাঠদানের সময় আমাদের এক এক জনকে কাছে ডেকে নিয়ে আমাদের শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিতেন। এ কারণে আমরা কয়েকজন ছাত্রী পিছনের বেঞ্চে গিয়ে বসতাম। স্যার সেখানে গিয়েও আমাদেরকে জড়িয়ে ধরতেন। স্যারের হাত থেকে রক্ষা পেতে আমি সহ ৩ ছাত্রী বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক অভিভাবক বলেন, গত কয়েকদিন ধরে আমার মেয়ে বিদ্যালয়ে যেতে অনিহা প্রকাশ করে। তার কাছে কারণ জানতে চইলে, সে শিক্ষক চিন্ময় বসুর কু-কর্মের কথা আমাকে জানায়। আমি বিষয়টি প্রধান স্কুলের শিক্ষক শিখা হালদারকে খুলে বলি। তিনি এই ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নি। বরং শিক্ষক চিন্ময় বসুকে রক্ষা করতে তিনি মসগুল। ওই শিক্ষকে বদলী না করা পর্যন্ত আমার মেয়েকে বিদ্যালয়ে পাঠাব না।
এ বিষয়ে জানার জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষক চিন্ময় বসুর বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
প্রধান শিক্ষক শিখা হালদার বলেন, বিষয়টি আমি বিভিন্ন অভিভাবকদের কাছ থেকে জানার পরে শিক্ষক চিন্ময় বসুর কাছে জানতে চেয়েছিলাম। শিক্ষক চিন্ময় বসু ঘটনাগুলো সত্য নয় বলে আমাকে জানিয়েছেন। তিনি ছাত্রীদেরকে আদর করে পড়া বুঝিয়ে দিতেন বলে আমাকে অবহিত করেছেন। চিন্ময় বসু আমার কাছে ছুটির আবেদন করলে গত বৃহস্পতিবার (১১ মে) থেকে আমি তাকে ৩ দিনের ছুটি মঞ্জুর করি।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে ওই বিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষক বলেন, শিক্ষক চিন্ময় বসু এখানে যোগদানের পর থেকেই পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীদের গায়ে কারণে অকারণে হাত দিতেন। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর আমরা প্রধান শিক্ষক শিখা হালদারকে জানাই। তিনি চিন্ময় বসুর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নি। পক্ষান্তরে তাকে রক্ষার জন্য প্রধান শিক্ষক শিখা হালদার তাকে ৩দিনের ছুটি দিয়েছেন। এই নিয়ে এলাকায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
এদিকে গত রোববার শিক্ষক চিন্ময় বসুর বিদ্যালয়ে যোগদান করার কথা থাকলেও আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত তিনি বিদ্যালয়ের যোগদান করেননি।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রাবেয়া সুলতানা বলেন, শিক্ষক চিন্ময় বসুর কু-কর্মের কথা পঞ্চম শ্রেণির অনেক ছাত্রীর অভিভাবকই আমাকে জানিয়েছেন। আমরা তার বদলীসহ শাস্তি নিশ্চিত করতে বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার আমজাদ হোসেন বলেন, শিক্ষক চিন্ময় বসুর বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমাকে এখন পর্যন্ত কিছু জানায়নি। বিষয়টি আমি জেনে সত্যাতা পেলে শিক্ষক চিন্ময় বসুর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
(টিবি/এসপি/মে ১৬, ২০২৩)
