সুন্দরবনে শেষ হয়েছে তিন দিনব্যাপী রাস পূর্ণিমা পূজা ও পুণ্যস্নান
সরদার শুকুর আহমেদ, বাগেরহাট : বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জে দুবলার আলোরকেলে আজ সোমবার ভোরে দিনের প্রথম জোয়ারে সমুদ্রের লোনা পানিতে সনাতন হিন্দু ধর্মালম্বীদের রাস পুণ্যস্নানের মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে ঐতিহ্যবাহী রাস পূর্ণিমা পুণ্যস্নানের তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠান। প্রায় ২০০ বছর ধরে সুন্দরবনের আলোরকোলে রাস পূর্ণিমা পূজা ও পুণ্যস্নানে এবার প্রায় প্রায় ১০ হাজার সনাতন হিন্দু পূর্ণাথিরা জাগতিক পাপ মোচনের আশায় অংশ নেন।
এর আগে রবিবার সন্ধ্যায় অস্থায়ী মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় রাস পূর্ণিমা পূজা। এদিকে, তিন দিনব্যাপী রাস পূর্ণিমা পুণ্যস্নান চলাকালে দুবলারচরে আলোরকেলে র্যাব-৬ এর নতুন ক্যাম্প পরিদর্শন, মেডিকেল ক্যাম্প ও ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের উদ্বোধন করেন র্যাবের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি এম খুরশীদ হোসেন। রবিবার দুপুরে উদ্ধোধন করা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের ১৫টি সরবরাহ পয়েন্ট থেকে প্রতিদিন জেলে-বনজীবীসহ লক্ষাধিক মানুষের বিশুদ্ধ সুপেয় পানির চাহিদা মিটবে। এবারের রাস পূর্ণিমা পূজা ও পুণ্যস্নানে শুধুমাত্র সনাতন হিন্দু ধর্মালম্বীরাই যাবার অনুমতি পেয়েছে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় করতে দেয়া হয়নি কোন রাস উৎসব বা মেলা। রাস পূর্ণিমা পূজা ও পুণ্যস্নানে যাওয়া-আসার জন্য পাঁচটি নৌরুট নির্ধারণ করে দেয়া হয়। রাস পুণ্যস্নানের পর সকাল থেকে সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে ফিরতে শুরু করেছে সনাতন হিন্দু ধর্মালম্বীরা।
বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মোহাম্মদ নূরুল করিম জানান, সুন্দরবনের সাগর পাড়ে রাস পূর্ণিমা পূজা ও পুণ্যস্নানে যাওয়া-আসা নির্বিঘœ করতে পাঁচটি নৌরুট নির্ধারণসহ চারস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়। শুধুমাত্র সনাতন হিন্দু ধর্মালম্বীরা রাস পূর্ণিমা পূজা ও পুণ্যস্নান সুন্দরবনের আলোরকোলে যেতে হয়েছে। অতিতের মতো হবেনা কোন মেলা বসতে দেয়া হয়নি। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় হরিণসহ কোন প্রকার বন্যপ্রাণী শিকার, খাওয়া, সংরক্ষণ ও বনের অভ্যন্তরে পূর্ণাথিদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। রাস পূর্ণিমা পুণ্যস্নানের তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠান সুষ্ঠভাবে শেষ হবার পর সোমবার সকাল থেকে সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে ফিরতে শুরু করেছে সনাতন হিন্দু ধর্মালম্বীরা।
(এস/এসপি/নভেম্বর ২৭, ২০২৩)
