বিশেষ প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে যাত্রীবেশী দুর্বত্তদের হাতে আরাফাত হাসান (১৬) নামের এক অটোরিকশা চালক নির্মভাবে খুন হয়েছেন। নিহত অটোচালক আরাফাত হাসান উপজেলার সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের কাদৈর গ্রামের এন্তাজ আলীর পুত্র।

পুলিশ জানায়, ঘাতকরা অটো চালককে হত্যা করার পর তার অটো রিকশাটি ছিনতাই করে রাতের আঁধারে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ রাত দেড়টায় লাশ উদ্ধার করে আজ শুক্রবার সকালে মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।

নবীনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করোছেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বড়িকান্দি গনিশাহ'র মাজার থেকে দুই যাত্রী (যাত্রীবেশী ছিনতাইকারী) নিয়ে আরাফাত গতকাল রাত আনুমানিক নয়টার দিকে নিয়ে রতনপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে রতনপুরের খাগাতুয়া জোড়া ব্রীজে অটোরিকশাটি উঠার পরই যাত্রীবেশী দুই ছিনতাইকারী পেছন থেকে চালক আরাফাতকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। পরে আরাফাতের অটো রিকশা ও মোবাইল ফোন নিয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

লাশ উদ্ধারকারী সলিমগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই ইহসানুল হাসান বলেন, যাত্রীবেশী দুর্বৃত্তরা যখন চালক আরাফাতকে পেছন থেকে আচমকা ছুঁড়ি দিয়ে বারবার আঘাত করছিলো, তখন নিজেকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা করতে থাকে আরাফাত। এক পর্যায়ে সে (আরাফাত) তার মুঠোফোনে বাবা এন্তাজ আলীকে বলে, 'আব্বা, আমি অহন খাগাত্তা (খাগাতুয়া) জোড়া ব্রীজের উপরে আছি, আমারে বাঁচাও আব্বা, ছিনতাইকারীরা আমারে কুবাইয়া মাইরা ফালাইতাছে'!

নবীনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ বলেন, 'ঘটনার পর পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে সলিমগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে আসে রাত দেড়টায়। পরে আজ সকালে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।'

(জিডি/এসপি/ডিসেম্বর ০১, ২০২৩)