গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জ-০১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী লেঃ কর্নেল (অবঃ) মুহাম্মদ ফারুক খানের সমর্থকদের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ কাবির মিয়ার সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। 

গত বুধবার বিকেলে মুকসুদপুর উপজেলার মোচনা ইউনিয়নের নওহাটা বাজারে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তবে হামলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. রবিউল আলম সিকদারকে কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে কথা হয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান টুটুলের সাথে। তিনি বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকের সাথে নয়। রাস্তা দিয়ে চলার পথে গাড়ি ও মোটরসাইকেল ক্রসিং নিয়ে বাক বিতন্ডার পর এ সামান্য ঘটনা ঘটে।

হামলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর ৩ সমর্থক আহত হয়েছেন। তাঁরা হলেন মুকসুদপুর উপজেলার মোচনা ইউনিয়নের নওহাটা গ্রামের নুর আলম শেখ, তার ভাগ্নে মুহিদ ও ভাতিজা রাব্বি শেখ। তাঁদের মধ্যে নুর আলমকে হাতুড়ি পেটা করা হয়েছে বলে নুর আলম জানিয়েছেন। তাকে প্রথমে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এখন তিনি বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হামলার শিকার নুর আলম শেখ বলেন, বুধবার বিকেলে মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. রবিউল ইসলাম সিকদার মোচনা ইউনিয়নের নওহাটা বাজারে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের নির্বাচনী সভা করছিলেন। আমি মাদারীপুর উপজেলার টেকেরহাট থেকে মোটর সাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলাম। এসময় মোচনা ইউনিয়নের নওহাটা বাজারে পৌঁছালে রাস্তা বন্ধ করে দেয়। আমাকে মোটরসাইকেল থেকে টেনে নামিয়ে প্রথমে কিল, ঘুষি, লাথি ও চর মারে। আমি বাবলু শেখ ও লায়েক শেখকে চিনতে পারি। পরে ২০/২৫ জন হামলা করলে আমি অচেতন হয়ে পড়ি। এসময় কয়েকজন আমাকে হাতুড়ি পেটা করে। পরে আমাকে উদ্ধার করে মুকসুদপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আমি এখন বাড়িতে আছি।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ কাবির মিয়া বলেন, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদ ফারুক খানের লোকজন গতকাল বুধবার আমার কর্মী-সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলা করেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ রবিউল আলম সিকদারের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। তাহলে এ হামলা কার নির্দেশে করা হলো? এর আগেও আমার কর্মী-সমর্থকদের হামলা করেছে। হামলাকারীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান টুটুল ও তার ছেলে ফয়েজ, মোচনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইমদাদ, আলিম মোল্লা (বর্তমান শরীয়তপুরের গোসাই হাট পৌরসভার সচিব)। আমার প্রচারে কর্মীদের বাঁধা, পোস্টার ছিড়ে ফেলছে। আমি এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করেছি।

মোচনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইমদাদ মোল্লার হাতুড়ি বাহিনী দিয়ে হামলা করে। তার হাতুড়ি বাহিনীর প্রধান মোচনা ইউনিয়নের ৬ নম্বার ওয়ার্ড সভাপতির হিরু শেখে ছেলে বাবলু শেখ।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মোচনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ইমদাদ মোল্লা বলেন, আমি বর্তমান ঢাকাতে আছি আমি কোন ব্যক্তিকে হামলা করতে বলিনি। তাছাড়া আমার কোন বাহিনী নেই।

এবিষয়ে জানতে মুকসুদপুর উপজেলার আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. রবিউল সিকদারের মোবাইল ফোন বারবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেন নি।

মোবাইল ফোনে কথা হয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান টুটুলের সাথে তিনি বলেন, আমরা সবাই মিলে মিশে কাজ করছি। এখানে কোন ঝামেলা নেই। এখানে ভোটাররা নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে। আর গতকাল যে ঘটনা ঘটেছে সেটা আমি মোবাইলে জানতে পেরেছি, ওই সড়ক দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের গাড়ি যাচ্ছিলো এ নিয়ে একজনের সাথে একটু ঝামেলা হয়েছে এটা নির্বাচন কেন্দ্রীক নয়।

মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম বলেন, গতকাল মারপিটের ঘটনায় নুর আলম শেখ বাদি হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আসামি পলাতক থাকার কারণে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। আসামি গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যহত আছে।

উল্লেখ্য, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর ও কাশিয়ানীর একাংশ নিয়ে গোপালগঞ্জ-১ আসন (সংসদীয় আসন ২১৫)। এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুহাম্মাদ ফারুক খান বিগত ৫ বার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হন। কিন্তু এবছর সমীকরণ একটু উল্টোদিকে। এবছর মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী সদ্য পদত্যাগ করা মুকসুদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. কাবির মিয়া। ওই আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৩ হাজার ১০০ জন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, জাতীয় পার্টি, তৃণমূল বিএনপি, আওয়ামী লীগের ও স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।

(টিবি/এসপি/ডিসেম্বর ২৮, ২০২৩)