গোপালগঞ্জে বই উৎসবে শতভাগ বই বিতরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জে বই উৎসবে মাধ্যমিক স্তরে শতভাগ বই বিতরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এখানো এ জেলায় মাধ্যমিক স্তরের শতভাগ বই এসে পৌঁছায়নি। তবে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ সিদ্দিকুল ইসলাম জানিয়েছেন বই উৎসবের আগেই গোপালগঞ্জে সব বই এসে পৌঁছাবে। বই উৎসবের দিনেই সব বই বিতরণ করা সম্ভব হবে।
ওই কর্মকর্তা জানান, গোপালগঞ্জ জেলার ৫ উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমূহে ১২ লাখ ১১ হাজার ৫২১ খানা বইয়ের চাহিদা রয়েছে। ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৪১ খানা বই পাওয়া গেছে। জেলায় চাহিদার ৭৬.৬৪% বই এসে পৌঁছিয়েছে। ২ লাখ ৮২ হাজার ৯৪১ খানা বই এখনো এসে পৌছায়নি। এরমধ্যে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৫৯১ খানা বইয়ের চাহিদার বিপরিতে ২ লাখ ৯৭ হাজার ৯০১ খানা বই এসেছে । টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় ১ লাখ ০৬ হাজার ৫১৫ খানা বইয়ের চাহিদার বিপরীতে ৯২ হাজার ৮০৫ খানা বই পওয়া গেছে। কোটালীপাড়া উপজেলায় ১ লাখ ৮১ হাজার ৬১০ খানা বইয়ের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু পাওয়া গেছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ২৬৫ খানা বই। মুকসুদপুরে ২ লাখ ৭৪ হাজার ১৮০ খানা বইয়ের চাহিদার বিপরীতে ২ লাখ ২২ হাজার ৫৪৯ খানা বই পাওয়া গেছে। কাশিয়ানী উপজেলায় ২ লাখ ৫শ’ বইয়ের চাহিদার বিপরীতে মিলেছে ১ লাখ ২২ হাজার ৬৫০ খানা বই। প্রাপ্ত সকল বই আমরা বিদ্যালয়গুলোতে পাঠিয়ে দিয়েছি। অবশিষ্ট বই আসামাত্র আমরা বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেব।
আগামী ২ দিনের মধ্যে চাহিদার অবশিষ্ট বই এসে পৌঁছাবে বলে ওই কর্মকর্তা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র হালদার জানিয়েছে, গোপালগঞ্জ জেলার ৫ উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চাহিদার ৬ লাখ ৮৬ হাজার ৬৫৭ খানা বই এসে পৌঁছিয়েছে। বই উৎসবরে দিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতভাগ বই বিনামূল্যে শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলার নিলফা-বয়রা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুন সিকদার বলেন, আমার বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ৯ম শ্রেণির বই এসে পৌঁছিয়েছে। শুধু ৮ম শ্রেণির সামান্য কিছু বই আসেনি। আশা করছি অবশিষ্ট বই ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আমরা পেয়ে যাব। আগামী ১ জানুয়ারী আমরা বই উৎসবের দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই তুলে দিতে পারব।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মাঝিগাতী দশপল্লী নেছার উদ্দিন খান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রসাদ কুমার মৃধা বলেন, আমার বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ, ৭ম শ্রেণির বই এসে পৌঁছিয়েছে। এখনো অষ্টম ও নবম শ্রেণির বই পাইনি। এ ব্যাপারে আমি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করেছিলাম। তারা ৩০ ও ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সব বই দেবে বলে জানিয়েছে। বই উৎসবের দিনে আমরা শতভাগ বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে সক্ষম হব বলে ধারণা করছি।
(টিবি/এসপি/ডিসেম্বর ২৯, ২০২৩)
