গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর ও কাশিয়ানী উপজেলার একাংশ নিয়ে গঠিত গোপালগঞ্জ-১ আসন। এ আসন থেকে বিগত ১১ টি জাতীয় সংসদের প্রায় সব নির্বাচনেই আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এটি আওয়ামী লীগের অন্যতম ভোট ব্যাংক। ১৯৯৬ সাল থেকে এ আসনে আওয়ামী লীগের টিকেটে নির্বাচন করে আসছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক বানিজ্যমন্ত্রী লেঃ কর্নেল (অবঃ) মুহাম্মদ ফারুক খান। তিনি এ আসন থেকে ৫ বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। হেভিওয়েট এই নেতার বিরুদ্ধে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট যুদ্ধে নেমেছেন মুকসুদপুর উপজেলার সদ্য পদত্যাগকারী উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ কাবির মিয়া। তিনি ঈগল প্রতীক নিয়ে নৌকার ঘাঁটিতে শক্ত প্রতিদ্বন্দিতা গড়ে তুলেছেন। লেঃ কর্নেল (অবঃ) মুহাম্মদ ফারুক খানের ভুল ত্রুটিকে পুঁজি করে মোঃ কাবির মিয়া নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চাইছেন। তিনি মানুষের সমর্থন পেয়েছেন। তার মিছিল, মিটিংএ প্রচুর মানুষের সমাগম হয়েছে। নৌকার দূর্গে রিতিমত ভীতি ধরিয়ে দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত তিনি এটি ধরে রাখতে পারলে নির্বাচনে আশানুরূপ ফল পেতে পারেন। 

কিন্তু নৌকার অবস্থান আগের তুলনায় অনেক ভাল। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী লেঃ কর্নেল (অবঃ) মুহাম্মদ ফারুক বিগত ২৫ বছরের উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরছেন। নতুন নতুন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাইছেন। তিনি অতীতের ভুল ভ্রান্তির জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। তাতে ভোটাররা প্রশমিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা নৌকার পক্ষে ব্যাপক প্রচার প্রচারনা চালিয়েছেন। প্রতীক বরাদ্দের পর কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাঠ চষে বেড়িয়েছেন লেঃ কর্নেল (অবঃ) মুহাম্মদ ফারুক খান। শেষ মুহুর্তে এসে নৌকার পালেও জোরেসোরে হাওয়া লেগেছে। শেষ পর্যন্ত তিনি নৌকার ভোট ব্যাংকের সহানুভূতির ভোট পাবেন বলেও নির্বাচন বিশ্লেষকরা ধারনা করছেন।

নৌকার প্রার্থী লেঃ কর্নেল (অবঃ) মুহাম্মদ ফারুক খান গণমাধ্যম কর্মীদের বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে কোন শংকা নেই, চ্যালেঞ্জ আছে। নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত হয়ে ভোট দেবে। চ্যলেজ্ঞটি হল এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন। তিনিও নির্বাচনে জেতার জন্য খুবই চেষ্টা করছেন। এটা খুবই স্বাভাবিক। আমি চাই নির্বাচন প্রতিদ্বন্দিতা মূলক ও অংশ গ্রহনমূলক হোক। দেশের মানুষ অংশ গ্রহন করুক। সেই চ্যালেঞ্জ গুলি আছে। তারা তাদের মতো করে প্রচার করছে। আমি যতদূর বুঝেছি, আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষ তাদের (স্বতন্ত্র প্রার্থীর) কথা বিশ্বাস করে না। তারা মনে করে তারা অসত্য বক্তব্য রাখছে। তারপরও জনগন সিদ্ধান্ত নেবে কাকে তারা ভোট দেবে। আমি মনে করি জনগন অল্টিমেটলি নৌকা মার্কার পক্ষে, আমার পক্ষে, জননেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে ভোট দিয়ে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবে। তাদের নিরাপত্তা, সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত ও স্মার্ট বাংলাদেশের পক্ষে তারা ভোট দেবেন ইনশাল্লাহ।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ কাবির মিয়া বলেন, আমি আওয়ামী লীগ করি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছি। নেত্রীর ক্ষমতায় আসার জন্য যতটুকু দরকার ততটুকু সহযোগিতা আমি করব। আমর পক্ষে জনগনের যে সাড়া আছে, আমি নির্বাচিত হব ইনশাল্লাহ। আমি নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছেই যাব। আর কোথাও আমার যাওয়ার সুযোগ নেই।
মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাঈদুর রহমান টুটুল বলেন, লেঃ কর্নেল (অবঃ) মুহাম্মদ ফারুক খান গত ২৫ বছরে অনুন্নত নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করে চেহারা বদলে দিযেছেন। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেছে। আওয়ামী লীগের এ দূর্গের ভোটাররা উন্নয়ন, নিরাপত্তা সহ সব কিছু বিবেচনা করে নৌকায় ভোট দেবেন। এটা আমি নিশ্চিত।

কাশিয়ানী উপজেলার জোনাসুর গ্রামের ভোটার আব্দুর রহমান বলেন, রাজনীতিতে লেঃ কর্নেল (অবঃ) মুহাম্মদ ফারুক খান গ্রহনযোগ্য। তিনি ভাল মানুষ। কিন্তু তার মেয়ে কান্তারা খান, ভাই ইউপি চেয়ারম্যান সাব্বির খান ও মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রবিউল আলম সিকদারের কর্মকান্ড নিয়ে নির্বাচনী এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে। ফারুক খান প্রত্যেকটি জনসভায় গিয়ে ভুল ভ্রান্তির জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। এতে জনগনের ক্ষোভ কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। নৌকার আবস্থান এখন অনেকটাই ভাল।

(টিবি/এসপি/জানুয়ারি ০৬, ২০২৪)