গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মেয়ে শেখ হাসিনা। তিনি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। ১৯৮৬ সাল থেকে  গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছেন। এ পর্যন্ত তিনি এ আসন থেকে ৭ বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ৮ম বারের মতো নির্বাচিত হতে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান গোপালগঞ্জ। এ কারণে জেলাটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। 

এ জেলার টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া আসন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাই এ আসনের প্রতিটি নির্বাচনই উৎসব মুখর হয়েছে। ভোটাররা সর্বোাচ্চ ভোট দিয়ে তাঁকে নির্বাচিত করেছেন। বিএনপি সহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জামানাত হারিয়েছেন প্রতিবার। ৭ জানুয়ারী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসনে ভোট উৎসবের জন্য ভোটাররা অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছেন। আর এই উৎসবরে সূচনা হয় তফসিল ঘোষনার দিন থেকে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার পর টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ এবং সহযোগি সংগঠনের পক্ষ থেকে আনন্দ মিছিল বের করা হয়।

পরে অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ। এরপর ২৯ নভেম্বর উৎসবমুখর পরিবেশে জেলা প্রশাসক ও রির্টানিং কর্মকর্তা কাজী মাহবুবুল আলমের কাছে প্রধানমন্ত্রীর মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়। এসময় প্রধানমন্ত্রীর চাচা শেখ কবির হোসেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধি মোঃ শহীদ উল্লা খন্দকার, শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল এমপি, শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলের স্ত্রী শেখ শাহানা ইয়াসমিন শম্পা, শেখ সারহান নাসের তন্ময় এমপি, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি ও সাবেক এমপি নাজমা আক্তার, প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-২ গাজী হাফিজুর রহমান লিকু, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম সহ কেন্দ্রীয় , গোপালগঞ্জ জেলা, টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ এবং সহযোগি সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতীক বরাদ্দের পর প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার ২টি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়নে আনন্দঘন পরিবেশে নির্বাচনী অফিসের উদ্বোধন করা হয়।

এরপর থেকে প্রতিদিনই টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া উপজেলার নেতা,কর্মী ও সমর্থকরা শুরু করেন জনসংযোগ। তারা ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে লিফলেট বিতরণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের কথা কথা বলে ভোট চেয়েছেন। অংশ নিয়েছেন মিছিলে। করা হয়েছে পথসভা ও উঠান বৈঠক। প্রতিটি ইউনিয়নে নৌকায় ভোট চেয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। সেখানে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার আবদান তুলে ধরা হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হাজার হাজার মানুষ উপভোগ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৩০ ডিসেম্বর নিজ নির্বাচনী এলাকার টুঙ্গিপাড়া সরকারি শেখ মুজিবুর রহমান কলেজ ও কোটালীপাড়া শেখ লুৎফর রহমান আদর্শ সরকারি কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় ভাষন দেন। জনসভা ২টি জনসমুদ্রে পরিনত হয়।

নিজ নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের কাছে ভোট চেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা সব সময় আমাকে ভোট দিয়েছেন। আর আমার দায়িত্ব তো আপনারা নিয়েছেন। আমার নির্বাচন তো সব সময় আপনারাই করে দেন। আজকেও আমি আপনাদের কাছে এসেছি প্রার্থী হিসেবে। নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দেন। আমি সেটাই আপনাদের কাছে আবেদন করি।

এবার যারা প্রথমবারের ভোটার তাদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘প্রথমবারের ভোট, এ ভোট যেন ব্যর্থ না হয়। তাই যারা নতুন ভোটার, শুধু কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া না, সারা বাংলাদেশের জন্য আমার আহ্বান; নতুন ভোটাররা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে সরকার গঠন করার সুযোগ করে দেবে। বাংলাদেশ যেভাবে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, সেই উন্নয়নের পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করতে হবে। কারণ তারুণ্যের শক্তি, বাংলাদেশের অগ্রগতি। সেটাই আমরা বিশ্বাস করি।’

এছাড়া টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কুশলী, বর্ণি,পাটগাতী, গোপালপুর, ডুমরিয়া ইউনিয়ন, টুঙ্গিপাড়া পৌরসভা, কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্যাহপুর, রাধাগঞ্জ, কলাবাড়ী, রামশীল, কুশলা, হিরণ, কান্দি,পিঞ্জুরী, শুয়াগ্রাম, বান্ধাবাড়ী, আমতলী ইউনিয়ন ও কোটালীপাড়া পৌরসভায় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন এবং পৌর আওয়ামী লীগের আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পৃথক জনসভা করা হয়েছে।প্রত্যেকটি নির্বাচনী জনসভায় বিভিন্ন বয়েসের নারী-পুরুষ সতেস্ফুর্তভাবে মিছিল সহকারে অংশ নেন। ২টি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষের নির্বাচনী জনসভায় মানুষের ঢল নামে।

প্রধানমন্ত্রীর চাচা শেখ কবির হোসেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধি মোঃ শহীদ উল্লা খন্দকার, শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল এমপি, শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলের স্ত্রী শেখ শাহানা ইয়াসমিন শম্পা, শেখ সারহান নাসের তন্ময় এমপি, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি ও সাবেক এমপি নাজমা আক্তার, প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-২ গাজী হাফিজুর রহমান লিকু, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহাবুব আলী খান, সহ-সভাপতি ও পৌর মেয়র শেখ রকিব হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জিএম শিহাব উদ্দিন আজম, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আবুল বশার খায়ের, সহ-সভাপতি মোঃ ইলিয়াস হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ বাবুল শেখ, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফোরকান আলী , কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ভবেন্দ্র নাথ বাড়ৈ, সাধারণ সম্পাদক সম্পাদক আয়নাল হোসেন শেখ, উপজেলা চেয়ারম্যান বিমল বিশ^াস সহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতা-কর্মীরা পৃথক পৃথক প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে জনসভা, মিছিল, জনসংযোগ, লিফলেট বিতরণ, পথ সভা ও উঠান বৈঠকে অংশ নেন।

কোটালীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান বিমল কৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, উপজেলা টি ছিল জলমগ্ন, দুর্গম,অনুন্নত ও অবহেলিত। মানুষ দরিদ্রের কষাঘাতে জর্জরিত ছিল। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ব্যাপক উন্নয়নে কোটালীপাড়া বদলে গেছে। মানুষের জীবনযাত্রায় এসছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। তাই এখানকার মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আস্থাশীল। নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার পর এখানে নির্বাচনী উৎসব শুরু হয়। প্রচার প্রচারণা শেষে এখন ভোটাররা ভোট উৎসবের জন্য অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছেন। ৭ জানুয়ারীর মাহেন্দ্রক্ষণে তারা ব্যালটের মাধ্যমে নৌকার বক্স ভরে দেবেন এমন প্রত্যাশা আমাদের।

প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধি ও প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মোঃ শহীদ উল্লা খোন্দকার বলেন, ৭ জানুয়ারী ভোটের দিন ভোটাররা ভোট উৎসবে মাতবেন। সেভাবেই আমরা প্রচার প্রচারনা চালিয়েছি। ভোটারদের মধ্যেও ভোট নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনা লক্ষ্যকরা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ভোটের বিপ্লব ঘটিয়ে টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়ার মানুষ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত করবেন।
কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্যাপুর ইউনিয়নের পীড়ারবাড়ী গ্রামের ভোটার প্রহল্লাদ বিশ্বাস (৬০) বলেন, না চাইতেই প্রধানমন্ত্রী আমাদের সব দিয়েছেন। তাই আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি আমাদের আশা ও ভরসার স্থল। তাই আমরা ভোট দিতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছি। ভোটার শ্লিপ হাতে পেয়েছি। ভোটের দিন সকাল সকাল লম্বা লাইনে দাড়িয়ে ভোট দেব। এদিন আমরা ভোট উৎসব করব। কারণ দিনটি আমাদের কাছে অত্যন্ত আনন্দের।

(টিবি/এসপি/জানুয়ারি ০৬, ২০২৪)