গোপালগঞ্জ-১ আসনে অনিয়ম ও ভোট কারচুপির অভিযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন গোপালগঞ্জের-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কাবির মিয়া। গত সোমবার বিকেলে সাড়ে ৫ টায় মুকসুদপুরের কমলাপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ ঘোষণা দেন। এরপর মুকসুদপুর উপজেলার মুকসুদপুর-বরইতলা সড়কের মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে স্বতন্ত্র প্রার্থী সমর্থকরা।
এ সময় তিনি ভোটারদের আঙুলের ছাপ পরীক্ষা ও ভোট পুনঃগণনার জন্য নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষে্প কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আওয়ামী লীগের মুহা ফারুক খানের কর্মী সমর্থকরা কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দেয়। এরপর তারা ওই সব ভোটকেন্দ্রের মধ্যে অবস্থান করে জাল ভোট দেয়। জাল ভোটের উৎসবচ চলে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কাবির মিয়া আরো বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার পরও জনগণ আমাকে মুকসুদপুরের উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করেছিল। নির্বাচনী এলাকার জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করে আমি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি। আমার জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর লোকজন এসব অনিয়ম ও কারচুপির আশ্রয় নিয়েছে বলে আমি মনে করি।
তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দেয়ার ফলে প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছ থেকে তারা রেজাল্ট সিট সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়। নির্বাচনে পরিকল্পিতভাবে সূক্ষ্ কারচুপি করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
এছাড়াও মুহাম্মদ ফারুক খানের লোকজন বিভিন্ন স্থানে তার কর্মী সমর্থকদের উপর হামলা, বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর করেছে। এই পরিস্থিতিতে এলাকার পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠছে।
সংবাদ সম্মেলনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট মো. ইকবাল মিয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কাবির মিয়ার মেয়ে তানিমা মাহনুর সহ কর্মী সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে একই দাবিতে মুকসুদপুর -বড়ইতলা সড়কের কমলাপুরে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন মোঃ কাবির মিয়ার সমর্থকরা।
এসময় তারা প্রহসনের নির্বাচন মানিনা মানবো না, নির্বাচন চাই নির্বাচন চাই পুনরায় নির্বাচন চাই' সহ বিভিন্ন শ্লোগান দেয়।
মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাঈদুর রহমান টুটুল স্বতন্ত্র প্রার্থীর অভিযোগ অসত্য দাবি করে বলেন, এ আসনে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হয়েছে। এজেন্ট বের করে দেওয়া বা জাল ভোট দেওয়ার কোন ঘটনা ঘটেনি। এ আসনে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হয়েছে। মানুষ স্মার্ট বাংলাদেশ বির্নিমাণ, উন্নয়ন, নিরাপত্তা, শান্তি ও সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের পক্ষে ভোট দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ ১ (মুকসুদপুর-কাশিয়ানী) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী লেঃ কর্ণেল (অবঃ) মুহম্মদ ফারুক খান ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৫৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তিনি এ নিয়ে এ আসন থেকে আওয়ামী ণীগের টিকেটে ৬বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ কাবির মিয়া পান ১ লাখ ৮ হাজার ৯৩৪ ভোট।
(টিবি/এসপি/জানুয়ারি ০৯, ২০২৪)
