সরদার শুকুর আহমেদ, বাগেরহাট : বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে সরিষা ফুলের সমারোহ। যেদিকে দু’চোখ যায় সেদিকেই শুধু সরিষার ফুল। এ যেনো হলুদে সাজানো মাঠ প্রান্তর। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার বাম্পার ফলন হবে এমনটাই আশা করছেন চাষিরা।

চলতি মৌসুমে শরণখোলায় সরিষা চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪০০ হেক্টর জমিতে। সেখানে চাষাবাদ হয়েছে ৫০০ হেক্টর জমিতে। উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের মধ্যে খোন্তাকাটা ইউনিয়নে সব থেকে বেশি চাষাবাদ হয়েছে। ওই ইউনিয়নের পূর্ব খোন্তাকাটা,পশ্চিম খোন্তাকাটা,মঠেরপাড় ও রাজৈর এলাকায় ব্যাপক সরিষার আবাদ হয়েছে। তবে মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গত বছরের তুলনায় ফসল ভাল হবে বলে আশা করছেন কৃষি বিভাগ।

কৃষি বিভাগ বলছেন, উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা এবং সঠিক পরামর্শের কারনেই শরণখোলায় সষিার আবাদ বেড়েছে। উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের কৃষক মো. মিজানুর রহমান, মো. নাছির উদ্দিন, টিপু মুন্সি, রানী আক্তারসহ অনেকেই বলেছেন, কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে তারা প্রতিবছর সরিষা চাষ করেন। এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার ফুল অনেক ভাল হয়েছে। তাদের প্রতি একর জমিতে সরিষা চাষ করতে ৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে আশা করছেন প্রতি একরে ১৫ থেকে ১৬ মন সরিষা পাবেন।

উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষন অফিসার মো. মোস্তফা মশিউল আলম জানান, মৌসুম শুরুর আগে থেকে তেল ফসলের আবাদ বৃদ্ধি করার জন্য এ কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়। সেই লক্ষ্যে কৃষি অফিসের পরামর্শে উঠান বৈঠকসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে সরিষা চাষাবাদ বৃদ্ধি করতে কৃষকরা সক্ষম হয়েছেন। ক্ষেতে কোনো পোকামাকড়ের আক্রমণ না থাকায় এবছর শরণখোলা উপজেরায় সরিষার ফলন হতে পারে ১০০ মেট্রিক টন।

শরণখোলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবব্রত সরকার জানান, বাজারে সরিষার ব্যাপক চাহিদা ও ভাল দাম থাকায় শরণখোলার কৃষকদের সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়ছে। তাছাড়া কৃষি অফিসের বিভিন্ন কর্মসূচী বাস্তবায়নে কৃষকরা সরিষা চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। মাঠে বারি সরিষা ১৪, বারি ১৭ ও বিনা ৯ জাতের সরিষা আবাদ হয়েছে। আগামী বছর প্রায় এক হাজার হেক্টর জমি সরিষা চাষের আওতায় আসবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

(এস/এসপি/ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৪)