মোঃ আব্দুল কাইয়ুম, মৌলভীবাজার : দৃষ্টিহীন মানুষকে আলোর পথ দেখাতে প্রতি বছরের মতো এবারও মৌলভীবাজারে শুরু হয়েছে মবশ্বির-রাবেয়া ট্রাস্টের উদ্যেগে ৫ দিনের ফ্রি চক্ষু শিবির। ২০১৪ সাল থেকে শুরু হওয়া মানবিক এ কার্যক্রম এবার দশম বর্ষে প্রবেশ করলো।

শনিবার (২ মার্চ) থেকে শহরের পশ্চিম ধরকাপন এলাকায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি আজ রবিবার দ্বিতীয় দিনেও চলমান রয়েছে।

আয়োজকরা জানান, দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা শেষে এ বছর ছানিপড়া রোগী প্রায় ১৬০ জন ও নেত্রনালী (ডিসিআর) ৬০ জন রোগী অপারেশনের জন্য বাছাই করা হয়। অপারেশন ব্যাতীত প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়া রোগীদের ঔষধ ও চশমা প্রদান করা হয় প্রায় ১হাজার ৫’শ জনকে। ফ্রি চক্ষু শিবির চলবে টানা ৬ মার্চ। এতে বাছাইকৃত ছানিপড়া রোগীদের বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে অপারেশন কার্যক্রম চলবে। চোখের নেত্রনালী (ডিসিআর) অপারেশন পর্যায় ক্রমে করা হবে।

এর আগে গত ২ মার্চ সকালে মৌলভীবাজার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থায় ফ্রি চক্ষু শিবিরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার পৌর সভার মেয়র মোঃ ফজলুর রহমান।
মবশ্বির-রাবেয়া ট্রাষ্টের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সৈয়দ হুমায়েদ আলী শাহীনের সভাপতিত্বে ও ট্রাষ্টের নির্বাহী পরিচালক এস এম উমেদ আলীর সঞ্চালনায় ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের সহ সভাপতি ডা: ছাদিক আহমদ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোসাহিদ আহমদ চন্নু, হাসপাতালের ব্যবস্থাপক (এডমিন) মোঃ এহসানুল মান্নান প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পৌর মেয়র মোঃ ফজলুর রহমান বলেন, প্রতি বছর মবশি^র-রাবেয়া ট্রাষ্ট্রের উদ্যেগে বড় পরিসরে ফ্রি চক্ষু শিবির চালু রেখেছেন। যা মানবতার সেবায় একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। প্রতি বছরই এ সেবার সাথে অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষরা তাদের সার্বিক সহযোগীতা পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন। মবশ্বির রাবেয়া ট্রাষ্ট যেভাবে চিকিৎসা সেবা গরীবদের দিচ্ছে তেমনি সমাজের বৃত্তবানরা অন্যান্য চিকিৎসা সেবা দিলে অসহায় মানুষরা সেবা পাবে। ট্রাষ্টের এ কার্যক্রমের মাধ্যমে জেলা ব্যাপী ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে। এই কাজটি একটি সওয়াবের কাজ। ফ্রি চক্ষু শিবির সহ মানবতার কল্যাণে তাদের সকল কার্যক্রমের সফলতা কামনা করছি।

মবশি^র-রাবেয়া ট্রাষ্ট ২০১৪ সালে প্রথম ফ্রি চক্ষু শিবিরের কার্যক্রম শুরু করে। প্রথম বছর ২০১৪ সালে ছানীপড়া ৯০ রোগীকে অপারেশন করা হয়। ২০১৫ সালে ছানীপড়া রোগী ১১৭ জন, ২০১৬ সালে ছানীপড়া রোগী ১২০ জন, ২০১৭ সালে ছানীপড়া রোগী ১৯৫ জন ও চোখের নেত্রনালী (ডিসিআর) ৫১ জন, ২০১৮ সালে ছানীপড়া রোগী ২১০ জনকে ও চোখের নেত্রনালী (ডিসিআর) ৭০ জন, ২০১৯ সালে চোখের ছানিপড়া ১৮৪ জন ও চোখের নেত্রনালী (ডিসিআর) ৭০ জন, ২০২০ সালে চোখের ছানিপড়া ১৩৫ জন ও চোখের নেত্রনালী (ডিসিআর) ৬৭ জন, ২০২২ সালে চোখের ছানিপড়া ১৮৫ জন ও চোখের নেত্রনালী (ডিসিআর) ৬৩ জন ও ২০২৩ সালে চোখের ছানিপড়া ১৯০ জন ও চোখের নেত্রনালী (ডিসিআর) ৭০ জন রোগীকে অপারেশন করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটি চক্ষু সেবার পাশাপাশি করোনা কালে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিতরণ, গৃহ নির্মান, রিক্সা বিতরণ, রমজান মাসে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, হজ্ব প্রশিক্ষণ, অসহায় ও এতিমদের জন্য নগদ অনুদান প্রদান সহ আর্থ-মানবতার সেবায় বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে।

(একে/এসপি/মার্চ ০৩, ২০২৪)