সোহেল সাশ্রু, কিশোরগঞ্জ : ভৈরব পৌর শহরের কালীপুর রামশংকরপুর শ্মশান ঘাট ও ভৈরব বাজার এলাকায় মেঘনা নদীতে নৌকায় ভাসমান জুয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় জুয়াড়িরা প্রতিদিনই জুয়া খেলার আসর বসানোর অভিযোগ উঠেছে।

গত সোমবার সকালে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় ভৈরবের বিভিন্ন জায়গায় ও নৌকায় জুয়া খেলা হচ্ছে এমন অভিযোগ তোলেন স্থানীয় সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের লোকজন। তারা জুয়া বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে ভৈরব থানার ওসি মো. সফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ অফিসার ও ফোর্স নিয়ে পৌর এলাকার রামশংকরপুর শ্মশান ঘাট এলাকায় সাঁড়াসি অভিযান চালায় পুলিশ। ওই অভিযানের খবর পেয়ে জুয়াড়িরা পালিয়ে যায়। সরেজমিনে তিনঘণ্টা ব্যাপী ভৈরব থানা পুলিশের অভিযানে জুয়া খেলার আসরে আলামত হিসেবে তাস ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। ওই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন, ভৈরব থানার এসআই বাপ্পি, ভৈরব রিপোর্টার্স ক্লাব ও ইউনিটির যুগ্ম-সম্পাদক ও দৈনিক নয়া শতাব্দী ভৈরব প্রতিনিধি এম.আর রুবেল, যুগ্ম-সম্পাদক ও দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদের ভৈরব প্রতিনিধি মিজানুর রহমান পাটোয়ারী, সাপ্তাহিক সময়ের দৃশ্যপটের বার্তা সম্পাদক নাজির আহমেদ আলামিন প্রমুখ।

খোঁজ নিয়ে জানাযায়, দীর্ঘদিন ধরে মহেশপুর গ্রামের রিয়াজুল ও রামশংকরপুরের তারা মিয়া শ্মশান ঘাটের নির্জন জায়গায় জুয়ার আসর বসিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই জুয়ার কারণে যুবসমাজসহ তাদের পরিবার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনই শ্মশান ঘাট এলাকায় দুটিস্থানে জুয়ার আসর বসিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার জুয়া খেলা হচ্ছে। স্থানীয় কতিপয় লোকজনের মদদে প্রতিদিন জুয়া খেলার আসর বসলেও তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় লোকজন কথা বলতে সাহস পাচ্ছেনা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক স্থানীয় যুবক জানান দীর্ঘদিন ধরে রিয়াজুল ও তারা মিয়া শ্মশান ঘাটের জুয়ার আসর নিয়ন্ত্রণ করছে। যুবকদের দাবি প্রশাসনের উদ্যোগে যেন দ্রুত জুয়ার আসর বন্ধ করে যুবসমাজকে জুয়ায় আসক্ত হওয়ার হাত থেকে বাঁচায়।

অভিযান শেষে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সফিকুল ইসলাম জানান, উপজেলার রামশংকরপুর শ্মশান ঘাট এলাকায় জঙ্গলে মাঝে মধ্যে জুয়া খেলা হয় এমন সংবাদ পেয়ে পুলিশ অফিসার ও ফোর্সসহ তিনঘণ্টা ব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। অভিযানে এসে আজকে জুয়া খেলছে এমন কোন তথ্য পাননি। জুয়াড়িরা হয়ত পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যেতে পারে বলে জানান তিনি। এ অভিযান ভৈরবের বিভিন্ন জায়গায় পরিচালনা করে জুয়ার সাথে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার কথা জানালেন ওসি।

(এসএস/এসপি/মার্চ ১২, ২০২৪)