ঠিকানা গোপান করে চাকরি, আতঙ্কে কর্মস্থল থেকে লাপাত্তা
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : মো. ইব্রাহিম শেখ (৩৩) স্থায়ী ঠিকানা গোপন করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে চালক পদে চাকরি নেয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তিনি ৩ মাস ১২ দিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের সদর দপ্তর তদন্ত শুরু করেছে।
মো. ইব্রাহিম শেখ নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের দাসেরডাঙ্গা গ্রামের নুর ইসলাম শেখের ছেলে। ২০১৮ সালে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে চালক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ইব্রাহিম শেখ গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা সদরের ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে ওই পদে নিয়োগ পান। তিনি ২০১৯ সালের ৬ জুন ঢাকার দোহারে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে যোগদান করেন ।
ইব্রাহিমের চাকরির আবেদনে স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা সদরের ৩নং ওয়ার্ডের ঠিকানা। সরেজমিনে গিয়ে খোঁজ করে ইব্রাহিম নামে ওই যুবককে ৩নং ওয়ার্ডে পাওয়া যায়নি। কাশিয়ানী উপজেলা সার্ভার স্টেশনে গিয়েও তার ঠিকানার কোন সত্যতা মেলেনি।
কাশিয়ানী সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হাসানুর রহমান হাসু জানান, মো. ইব্রাহিম শেখ নামে কাশিয়ানী সদরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে কেউ নেই। এ নামে তিনি কাউকে চিনেন না বলেও জানান।
তবে লোহাগড়া উপজেলার দাসেরডাঙ্গা গ্রামে গিয়ে ইব্রাহিমের মা-বাবাকে খোঁজে পাওয়া যায়। ছেলের বিপদের কথা চিন্তা করে, এ বিষয় তারা কোনো কিছু বলতে রাজি হননি ।
এদিকে, ঠিকানা জালিয়াতির বিষয়টি জানাজানি হলেই ব্রাহিম শেখ গত ১৩ জুন ৭ দিনের ছুটি নিয়ে কর্মস্থল থেকে লাপাত্তা হয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।
ঢাকার দোহার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিলডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. তামিম হাওলাদার লাপাত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ইব্রাহিম এক সপ্তাহের ছুটিতে যান। তারপর আর কর্মস্থলে ফিরে আসে নি। দীর্ঘ ৩ মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তাই প্রধান কার্যালয়ে চিঠি দিয়ে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।’
এ বিষয় বক্তব্য নেওয়ার জন্য ইব্রাহিম শেখের মুঠো ফোনে একাধিক বার কলকরে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বেশ কয়েকবার ক্ষুদে বার্তাপাঠিয়েও কোন সাড়া মেলেনি । এ কারণে ইব্রাহিমের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয় বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের সদর দপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, ইব্রাহিমের বর্তমান কর্মস্থল ঢাকার দোহার স্টেশন থেকে তার অনুপস্থিতি সংক্রান্ত লিখিত চিঠি পেয়েছি। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হবে।
(এমএস/এএস/সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৪)
