মোঃ আব্দুল কাইয়ুম, মৌলভীবাজার : সদ্য কেন্দ্র ঘোষিত মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির নতুন আহবায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র ফয়জুল করিম ময়ূন বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে আমার প্রচেষ্টায় জেলা বিএনপির বিবাদমান দুই গ্রুপের বিভক্তির অবসান হয়েছে। এখন থেকে জেলা বিএনপিতে কোন বিভেদ-বিভক্তি নেই। সকল দলীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে ঐক্যবদ্ধভাবে একসাথে। তিনি বলেন, আমাকে জেলা বিএনপির আহবায়কের দ্বায়িত্ব দেয়ার পরপরই দলের দীর্ঘদিনের বিভক্তির অবসান ঘটাতে উদ্যেগ গ্রহণ করি। এর আগেও আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিল, তবে সেক্ষেত্রে নানা কারণে ব্যর্থ হয়েছি।

বুধবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে নিজ বাসায় এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ফয়জুল করিম ময়ূন বলেন, কেন্দ্র জেলা বিএনপির আহবায়ক হিসেবে আমাকে দ্বায়িত্ব দেয়ার পরপরই আমি প্রথমবারের মতো ৫ নভেম্বর রাতে দলের আহবায়ক কমিটির সব সদস্যকে নিয়ে বেঠকে বসি। সেখানেই দীর্ঘদিনের বিভাজনের অবসান হয়। এর পর সবার সম্মিলিত সিদ্ধান্ত হয় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচি পালনের।

জেলা বিএনপির আহবায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন এর সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন,আহবায়ক কমিটির সদস্য, মোয়াজ্জেম হোসেন মাতুক, ভিপি মিজানুর রহমান, মৌলভী আব্দুল ওয়ালী সিদ্দিকী, আব্দুল মুকিত, আশীক মোশাররফ,হেলু মিয়া, বকসী মিছবাউর রহমান, মতিন বক্স, মনোয়ার আহমেদ রহমান, ফখরুল ইসলাম, মারুফ আহমদ, স্বাগত কিশোর দাস চৌধুরী, জেলা আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক বকসী জুবের আহমদ, মুহিতুর রহমান হেলাল ও রুবেল আহমদ প্রমুখ।

একাধিকবার জেলা বিএনপির শীর্ষ পদে দ্বায়িত্ব পালন করেছেন ফয়জুল করিম ময়ূন। ছিলেন, সাধারণ মানুষের বিপুল ভোটে নির্বাচিত একাধিবারের সাবেক সফল ও জনপ্রিয় পৌর মেয়র। সদ্য ভেঙ্গে দেয়া জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবেও দ্বায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। মাঠের কর্মসূচিতেও ছিলেন সক্রিয়। সব শেষ চলতি সাপ্তাহের ৪ নভেম্বর ফয়জুল করিম ময়ূনকে আহবায়ক করে ৩২ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি ঘোষনা করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির এই আহবায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১১ এপ্রিল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন। ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট ওই কমিটির সভাপতি হন সাবেক সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক হন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ভিপি মিজানুর রহমান। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পর কিছুদিন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে একসঙ্গে জেলা বিএনপির সব কার্যক্রম চললেও কিছুদিন যেতে না যেতেই সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে জেলা বিএনপির দুই অংশ আলাদা হয়ে যায়। জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অল্প সময় একসঙ্গে চললেও সেটি বেশি দিন টিকেনি। কেন্দ্রীয় সব কর্মসূচিও চলে আলাদাভাবে। এভাবে দৃশ্যমান হয় জেলা বিএনপির বিভক্তি। বিভক্তির এই প্রভাব পড়ে দলের তৃণমূল পর্যায়েও।

(একে/এসপি/নভেম্বর ০৬, ২০২৪)