সুন্দরবনে পুণ্যস্নানের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে রাস উৎসব
সরদার শুকুর আহমেদ, বাগেরহাট : সুন্দরবনের দুবলার চরের আলোরকোলে অস্থায়ী মন্দিরে শনিবার পূজা অর্চণা ও ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সাগরের প্রথম জোয়ারের নোনা জলে পুণ্যস্নানের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে সনাতন ধর্মালম্বিদের তিন দিনের রাস উৎসব। পুণ্যস্নান শেষ হবার পর সুন্দরবনের পাঁচটি নৌপথ ব্যবহার করে সব পুণ্যার্থীরা এখন লোকালয়ে ফিরে আসবে। এবারের রাস উৎসবে অর্ধলাখ সনাতন পুণ্যার্থী অংশ নিয়েছে বলে জানিয়েছে বনবিভাগ ও রাস উৎসব উদযাপন কমিটি।
সুন্দরবন বিভাগ জানায়, ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ এই বনের চাঁদপাই রেঞ্জে শত বছরের এই রাস পুণ্যস্নান প্রতিবছর নভেম্বর মাসের পূর্ণিমার তিথিতে পালিত হয়। এজন্য প্রতিবছরই সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জে দুবলার চরের আলোরকোলে রাস পূজার জন্য নির্মাণ করা হয় অস্থায়ী রাস মন্দির নির্মাণ।
ঐতিহাসিকদের মতে জনবিচ্ছিন্ন দ্বীপ দুবলার চরের আলোরকোলে ১৯২৩ সাল থেকে শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের অনুসারী হরিভজন সাধু প্রথমে রাস পূজা ও পুণ্যস্নান শুরু করেন। দুই যুগেরও অধিককাল এই সাধু সুন্দরবনে রাস পূজা ও পুণ্যস্নানের আয়োজন করে। তার মৃত্যুর পর সনাতন ধর্মের লোকেরা প্রতিবছর রাস পূর্ণিমা তিথীতে রাস পুজা ও পুণ্যস্নানের পালনে ছুটে যায় দুর্গম সুন্দরবনে। ১০৭৭ সাল থেকে নভেম্বর মাসে রাস পূর্ণিমা তিথীতে সুন্দবনের দুবলা ফিসারম্যান গ্রুপের সহয়তায় বন বিভাগ ও রাস উৎসব উদযাপন কমিটি এই রাস পুজা ও পুণ্যস্নানের আয়োজন করে আসছে।
সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, শুক্রবার রাতে দুবলার চরের আলোরকোলে অস্থায়ী রাস মন্দির সনাতন পূণ্যার্থীর মনোবাসনা পুরণের আশায় পুজা-আর্চনা শেষে শনিবার প ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সাগরের প্রথম জোয়ারের নোনা জলে পুণ্যস্নানের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে সনাতন ধর্মালম্বিদের তিন দিনের রাস উৎসব। ধীরে ধীরে এই রাস পুজা ও পুণ্যস্নানের রাস মেলায় পরিনত হয়। প্রতি বছর আসতে থাকে লক্ষাধিক পূণ্যার্থী ও দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী। লক্ষাধিক লোকেরা এই মিলন মেলায় সংরক্ষিত বনের পরিবেশ-প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ায় থাকায় ২০২১ সাল থেকে রাস মেলা বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে, তখন থেকেই রাস পুজা ও পুণ্যস্নান পালনে শুধুমাত্র সনাতন ধর্মলম্বীদের যাবার অনুমতি দেয় বন বিভাগ। এবারের রাস উৎসবে অর্ধলাখ সনাতন পূণ্যার্থী অংশ নিয়েছে বলে তিনি।
(এসএস/এসপি/নভেম্বর ১৫, ২০২৪)
