‘জামায়াত নিষিদ্ধ করে দেশ ছাড়তে হয়েছে শেখ হাসিনাকে’
স্টাফ রিপোর্টার, পঞ্চগড় : কারাবন্দি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে পঞ্চগড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে দলটি।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে পঞ্চগড় শহরের চৌড়ঙ্গীমোড় থেকে মিছিলটি বের হয়ে ঢাকা তেঁতুলিয়া মহাসড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মিছিলটির সমাপ্তি ঘটে তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায়।
জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন এর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন।
জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা মফিজ উদ্দীন, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন, শহর আমীর জয়নাল আবেদীন, জামায়াত নেতা তোফায়েল প্রধান, সফিউল্লাহ সুফি, ব্যারিস্টার মাহমুদ আল মামুন হিমু, সদর উপজেলা আমীর সফিউল ইসলাম, সেক্রেটারি সুলতান মাহমুদ, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আবুল বাশার বসুনিয়া, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জুলফিকার রহমান, সাবেক সভাপতি নূর-ই-আলম সালেহী, আল মামুন, সেক্রেটারি রাশেদ ইসলাম, সাবেক সেক্রেটারি লোকমান আলী প্রমূখ।
এর আগে চৌড়ঙ্গী মোড়ের মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় বিক্ষোভ সমাবেশে।এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, 'পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো মামলায় কারাবন্দি করা হয় জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামকে। দীর্ঘে ১৩ বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে আটক আছেন তিনি। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে স্বৈরাচার সরকার পালিয়ে গেলেও তার সাজানো মামলা থেকে এখনো মুক্তি মিলে নি এই জামায়াত নেতার। অভ্যুত্থান পরবর্তীতে বহু মিথ্যা মামলার আসামীর মুক্তি হলেও জামায়াতের এই নেতার সাথে বৈষম্য করা হয়েছে। দীর্ঘ ৬ মাসেও তার মুক্তির ব্যবস্থা করতে পারেনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।'
বর্তমান সরকারকে উদ্দেশ্য করে জেলা জামায়াতের আমীর আরও বলেন, 'ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে, তবে আমার ভাইয়ের মুক্তি কেন হলোনা এখনো? স্মরণ করে দিতে চাই, যারা জামায়াতের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ইতোপূর্বে ষড়যন্ত্র করেছে তাদের অতিত ইতিহাস কিন্তু ভালো না। পতিত সরকার জামায়াত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অন্যায় করেছে, আপনারা সেই ধারাবাহিকতায় যাবেন না। স্বাধীনতার পর জামায়াতের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করেছিলো বাকশালি সরকারের প্রধান শেখ মুজিব। তাঁর পতনের ইতিহাস এই জাতি জানে। একইভাবে শেখ মুজিবের মেয়ে শেখ হাসিনাও জামায়াতের সঙ্গে অন্যায় করে টিকতে পারে নি। জামায়াতকে নিষিদ্ধের মাত্র ৪ দিনের মধ্যে দেশ ছাড়তে হয়েছে তাঁকে। ১৯৯০ সালেও স্বৈরাচার এরশাদ সাহেব জামায়াতের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করেছিলো, ইসলামী ছাত্রশিবিরের অসংখ্য নেতাকর্মীকে হত্যা করেছিলো। এমন ভরাডুবিতে পড়েছে আজকে তার দলের নাম নেয়ার লোক নেই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর আমাদের আস্থা আছে। দ্রুত আমাদের নেতার মুক্তির ব্যবস্থা করে দিন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো আমরা।'
উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এটিএম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি আপিল করা হয়। এই আপিলের উপর শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর আপিল বিভাগ রায় দেন। ২০২০ সালের ১৫ মার্চ আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।
(আরএআর/এসপি/ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৫)
