রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : অবৈধপথে ভারতে ঢোকার সময় ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর হাতে আটক ছয়জন শিশুসহ ১৫ বাংলাদেশি নাগরিককে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বুধবার (২৭ আগস্ট) রাত সাড়ে আটটার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার তলুইগাছা সীমান্তের হাকিমপুর চেকপোস্ট এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফ এর মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে এ হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

বহস্পতিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে অবৈধভাবে ভারত প্রবেশের সময় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাট মহকুমার উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাকিমপুর চেকপোস্ট এলাকায় বিএসএফ তাদের আটক করে। আটককৃতদের মধ্যে সাতক্ষীরা, খুলনা ও পিরোজপুর জেলার পুরুষ, নারী ও শিশুসহ মোট ১৫ জন রয়েছেন। পরদিন বিএসএফের আমুদিয়া কোম্পানী কমান্ডার ইন্সপেক্টর দিবাজ্যোতি ডলি এবং বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বিজিবির তলুইগাছা বিওপি কমান্ডার আবুল কাশেমের উপস্থিতিতে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের ফেরত দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে বিজিবির একটি টহলদল আটককৃতদের সাতক্ষীরা সদর থানায় সোপর্দ করে।

আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন- সাতক্ষীরা শ্যামনগরের পশ্চিম কৈখালী গ্রামের আব্দুর রব সরদারের ছেলে মোঃ সেকেন্দার হোসেন, কালাচাঁদ গাজীর ছেলে মোঃ আব্দুল্লা গাজী (৩৮), শ্যামনগরের যোগেন্দ্রনগর গ্রামের মোঃ সুজাত আলী গাজীর মেয়ে ঝর্ণা খাতুন (৩৮), পিরোজপুর জেলার খানাকুনিয়ারী গ্রামের এছাহাক মোল্লার ছেলে রুহুল আমিন (৪০), রুহুল আমিনের স্ত্রী শেফালী বেগম (৩৫), মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (০৭), শ্যামনগরের কালিঞ্চি গোলাখালী এলাকার মিকাইল মোল্লার স্ত্রী মোছাঃ নাজমা বিবি (৩৩), মেয়ে মাহেরা আক্তার (০৬), ছেলে নাজমুল হাসান নাইম (১৬), মেয়ে মিনা (১৩), খুলনার বাটিয়াঘাটা কৃষ্ণনগর, জলমা এলাকর মৃত জিয়ারুল ইসলামের স্ত্রী মর্জিনা বেগম (৪৪), মেয়ে হাসিনা খাতুন (১০), শ্যামনগর নওয়াবেঁকীর পূর্ব বিড়ালক্ষী গ্রামের আবিয়ার রহমান শেখের মেয়ে মোছাঃ মাফুজা খাতুন (৩৪), মেয়ে তানিয়া সুলতানা (১০), ছেলে মাফুজ রহমান (০২)।

এ ব্যাপারে তলুইগাছা বিওপি কমান্ডার নায়েব সুবেদার আবুল কাশেম সাতক্ষীরা সদর থানার সাধারণ ডায়েরী করেছেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শামিনুল হক বলেন, বিএসএফের হাতে আটক ১৫ জন বাংলাদেশিকে বিজিবি থানায় হস্তান্তর করেছে। ইতিমধ্যে আটক ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা ও স্বভাব-চরিত্র যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় তথ্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বৈধ অভিভাবকদের জিম্মায় তাদের হস্তান্তর করা হবে।

(আরকে/এএস/আগস্ট ২৯, ২০২৫)