নিউ ইয়র্কে সাংবাদিক ছাবেদ সাথীর ওপর দলবদ্ধ আক্রমণ, হত্যার চেষ্টা

ইমা এলিস, নিউ ইয়র্ক : অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশের জেরে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাংবাদিক ও বাংলা প্রেস-এর সম্পাদক ছাবেদ সাথীর ওপর দলবদ্ধ আক্রমণ ও হত্যার চেষ্টা করেছে প্রবাসী বাংলাদেশি একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ। নিউ ইয়র্কের কুখ্যাত গৃহ পরিচর্যা ব্যবসায়ী শাহ নেওয়াজ এ দলের নেতৃত্বে দেন। গত রবিবার (২৪ আগষ্ট) রাত ১০টার দিকে নিউ ইয়র্কের লাগার্ডিয়া মেরিয়ট হোটেলের সামনের দরজার কাছে এ ঘটনা ঘটে।
সন্ত্রাসীরা তাকে মারধরের পর পুলিশের কাছে উল্টো মিথ্যা অভিযোগ করে ভুক্তভোগীকেই পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এ ন্যাক্কারজনক ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে প্রবাসী বাংলাদেশিরা তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জানা যায়, নিউ ইয়র্কের লাগোর্ডিয়া ম্যারিয়ট হোটেলের মিলনায়তনে নিউ ইয়র্কস্থ বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তাদের সামাজিক সমাবেশ (মিলন মেলা) এর আমন্ত্রণ পেয়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাংবাদিক ছাবেদ সাথী উক্ত অনুষ্ঠানে হাজির হন। প্রায় দেড় ঘন্টা অনুষ্ঠান চলার পর বাংলাদেশ সোসাইটির বর্তমান ট্রাষ্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও কুখ্যাত গৃহ পরিচর্যা ব্যবসায়ী শাহ নেওয়াজ ৪/৫ জনের একটি সন্ত্রাসী দলকে নিয়ে অবাধে অনুষ্ঠানেস্থলে প্রবেশ করেন। এরপর তাদেরকে বিভিন্ন দরজায় দাঁড়িয়ে থাকার নির্দেশনা দেন। অগ্রিম নিবন্ধন ছাড়া অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের কোন বিধান না থাকলেও তিনি আয়োজকদের না জানিয়ে তার পোষ্য সন্ত্রাসীদলকে নিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন। তারা ছাবেদ সাথীর নজরদারি করতে শুরু করেন। এরা মাঝে মধ্যে তার স্ত্রীর আমেনা নেওয়াজ ওরফে রানোর কাছে গিয়ে ফিসফিস করে কথা বলেন। প্রতি মিনিটে আমেনা তার ফোনে আসা মেসেজ পড়ছিলেন। তাদের গতিবিধি আঁচ করতে পেরে ছাবেদ সাথী রাতের খাবারের পর প্রথমে বাথরুমে যান। তাকে লক্ষ্য করে পেছনে পেছনে উক্ত সন্ত্রাসী দলটিও বাথরুমে প্রবেশ করেন। সেখানে নিউ ইয়র্কের পরিচিত মুখ ও সাবেক রাজনীতিবিদ আলাউদ্দিন খান বুলুকে দেখে ছাবেদ সাথীকে আক্রমণে ব্যর্থ হন। এরপর ছাবেদ সাথী হলরুম থেকে বেরিয়ে পার্কিং লটে তার গাড়ির দিকে যাবার চেষ্টা করলে সন্ত্রাসী দলটি তার পিছু নেয়। তিনি পুনরায় লবিতে ফিরে আসেন। অন্য একটি দরজা দিয়ে আবার পার্কিং লটে যাবার চেষ্টা করেলে তাকে মুখোমুখি করে কয়েকদিন আগে প্রকাশিত দুটি সংবাদের সূত্র নিয়ে তর্ক বাধানোর চেষ্টা করেন।
এসময় নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ঠিকানার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি এম এম শাহীন, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ-এর সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ ও সাপাহিক জন্মভূমির সম্পাদক রতন তালুকদার উপস্থিত ছিলেন। তাদের সামনেই তারা ছাবেদ সাথীর সঙ্গে বাক-বিতন্ডা শুরু করেন। ঘটনা বেগতিক দেখে তারা সামনের দিকে একটু অগ্রসর হতেই শাহ নেওয়াজ দ্রুত কাছে এসে ছাবেদ সাথীকে মারার জন্য সন্ত্রাসীদের হুকুম দেন। এসময় তিনি অকথ্য ভাষায় গালাগালি দিয়ে নিজেই ছাবেদ সাথীর গায়ে হাত তোলেন।
তিনি বলেন, তোমরা কি দেখছো 'শালা শুয়ারের বাচ্চাকে মেরে ফেলো'। ছাবেদ রিসিপসনিষ্ট ডেস্কে গিয়ে অভিযোগ দিলে তারা পুলিশে কল দিতে বলেন। তাদের কথামত তিনি পুলিশে কল করেন এসময় কর্তব্যরত একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তাও তার ফোনে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন। তবে পুরো দৃশ্যটি হোটেলের সিসি টিভিতে ধারণ করা রয়েছে বলে লাগোর্ডিয়া ম্যারিয়ট হোটেলের অপারেশন ম্যানেজার জোডানা ইয়াং জানিয়েছেন। ছাবেদ আবার ফ্রন্ট ডেস্কে গিয়ে তাদের পুলিশ কল দিতে বললে তারা দুর্ঘটনাজনিত একটি রিপোর্ট ফর্ম পুরণ করতে বললএ ছাবেদ ফর্মটি পুরণ করতে বসেন। তখন বাইরে পুলিশ এসে হাজির হয়। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের কাছে উল্টো অভিযোগ করেন। পরে পুলিশকে নিয়ে লবিতে প্রবেশ করে শাহ নেওয়াজ আঙ্গুল উঁচিয়ে ছাবেদ সাথীকে গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশ বলেন আরেস্ট হিম। পুলিশ আর ছাবেদ সাথীর কোন কথাই কর্ণপাত করেননি। এ সময় তিনি সিসি টিভির ফুটেজ দেখার অনুরোধ করলে পুলিশ তা আমলে নেয়নি। পুলিশকে ভুল পথে পরিচালিত করার এ ঘটনাটিও পুলিশের ৭/৮ জন পুলিশের বডিকাম ক্যামেরায় ধারণ করা রয়েছে।
পরদিন জামিন প্রদানকালে ছাবেদ সাথীর আইনজীবি হোটেলের ভিডিও ফুটেজে সংগ্রহের জন্য আদলাতে আবেদন করেন। সন্ত্রাসীদের এমন হামলার ঘটনায় নিউ ইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে নানা সমালোচনার ঝড় বইছে।
(আইএ/এসপি/আগস্ট ২৯, ২০২৫)