চাটমোহরে ‘মধু চক্রের’ সদস্যদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন

চাটমোহর প্রতিনিধি : নীরবে ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক ব্যধি, মধু চক্রের’ ভয়ংকর জালের বিস্তার বেড়ে যাওয়া নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ সংবাদ প্রকাশের পর সংবাদটিতে উঠতি বয়সী যুবক-যুবতীদের মাদক সেবন, অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকা, ছাত্রীদের ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল, শিক্ষার্থীদের নগ্নতাসহ অসংখ্য বিষয়ে তথ্য সম্বলিত উঠে এসেছিল। এমন সংবাদ প্রকাশের পরেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
এরপর গত তিনদিন ধরে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী ও কিছু বখাটেদের মাদকসেবন ও নগ্নতার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এরপরেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ফুঁসে উঠেছে চাটমোহরের নাগরিক সমাজ।
চাটমোহরে মধু চক্রের সদস্যদের গ্রেফতারের দাবিতে শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ১১টায় পৌর শহরের থানা মোড় এলাকায় নাগরিক সমাজের ব্যানারে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য মানববন্ধন থেকে পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেওয়া হয়। পরে মানববন্ধন শেষে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, সাবেক সংসদ সদস্য কেএম আনোয়ারুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাসাদুল ইসলাম হীরা, যুবদল নেতা কে. এম সাইদ-উল ইসলাম কাফি, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আসদুজ্জামান লেবু, পৌর যুবদলের আহবায়ক তানভির লিখন জুয়েল, ছাত্রদল নেতা শরিফুুল ইসলাম, জাতীয় নাগরিক কমিটির চাটমোহর উপজেলা শাখার আহবায়ক ফয়সাল কবির, সদস্য রোকসানা পারভীন, খাইরুল ইসলাম, আহত জুলাই যোদ্ধা আব্দুল আলিম প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পত্র পত্রিকায় তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশের পরেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে নিশ্চুপ আছে। জেলার মধ্যে চাটমোহর একটি শান্তিপূর্ণ এলাকা। গুটিকয়েক উঠতি বয়সী যুবক-যুবতী সমাজকে নষ্ট করছে এটা মেনে নেওয়া যায় না। প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও নগ্নতা মেনে ও নেওয়ার মতো না। চাটমোহরকে বাঁচাতে হলে মধুচক্র ভাঙতে হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় না আনলে এরপর কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এ ব্যাপারে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন, যারা এরসাথে জড়িত তারা কেউ এখন এলাকাতে নেই। এই চক্রকে ধরতে পুলিশ কাজ করছে। এই চক্রকে ধরতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা চান ওসি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, মাদক ও অশ্লীলতার বিষয় নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে যা দেখেছি বা শুনেছি বিষয়টি নিয়ে আমরা খুবই মর্মাহত হয়েছি। যারা এর সাথে জড়িত তাদের প্রত্যেকের ঠিকানা ও তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে। তারা এ ব্যাপারে কাজ করছে। আসলে এটা একটা সামাজিক ব্যধি। এটাকে প্রতিরোধ করা জরুরি। আমরা সবাই মিলে কাজ করবো এবং এই সামাজিক ব্যধিকে প্রতিরোধ করব।
(এসএইচ/এসপি/আগস্ট ৩০, ২০২৫)