সালথায় প্রধান শিক্ষক সামসুন্নাহারকে বিদায় জানালেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

সালথা প্রতিনিধি : দীর্ঘ ৩২ বছরেরও বেশী সময় চাকুরী শেষে অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা পেলেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসাঃ সামসুন্নাহার।
আজ রবিবার তার শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবস। বিকালে প্রিয় প্রধান শিক্ষককে অবসর জনিত বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীরা।
পবিত্র কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর বিদায়ী প্রধান শিক্ষককের উদ্দেশ্যে মানপত্র পাঠ করা হয়। তার হাতে তুলে দেয়া হয় সম্মানসূচক ক্রেস্ট। শিক্ষার্থীরা বক্তব্যের মাধ্যমে প্রিয় শিক্ষকের স্মৃতিচারণ করেন। শিক্ষাগুরুকে পুষ্পমাল্য পরিয়ে ফুল দিয়ে সাজানো গাড়িতে করে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়।
১৯৯৩ সালের পহেলা নভেম্বর সরাসরী প্রধান শিক্ষক হিসেবে বালিয়া-গট্টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিজের শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন মোসাঃ সামসুন্নাহার। পরে ২০০০ সালে বদলি হয়ে আসেন গট্টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর একে একে কেটে গেছে প্রায় ৩২ বছর।
শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবসে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তার সহকর্মীদের পাশাপাশি উপস্থিত হন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। প্রিয় শিক্ষককে অশ্রুসজল নয়নে বিদায় দেন তারা। সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশের।
জয়ঝাপ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাওছার তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার হাবীবুর রহমান, কানাইড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ দেলোয়ার হোসেন, স্বরুপদিয়া বড়দিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরেফিন মিয়া, শিক্ষক নেতা সাহেবুল ইসলাম, সৈয়দ মনির সহ গট্টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকবৃন্দ, এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ, অভিভাবক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্যগণ, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীবৃন্দ।
এসময় অতিথি ও শিক্ষকরা বলেন, আজ সত্যিই আমাদের জন্য বেদনার দিন, মন খারাপের দিন। সামসুন্নাহার ম্যামকে আর কোনোদিন ক্লাসে পাব না ভাবতেই খারাপ লাগছে। তার কাছে অনেক কিছু শিখেছি, অনেক নির্দেশনা পেয়েছি। তার ন্যায়পরায়নতা, কর্মদক্ষতা, সততা ও সময়ানুবর্তিতা আমাদের অনুপ্রেরণা যোগাবে। তিনি যাদেরকে তৈরি করেছেন তাদের অনেকে দেশসেরা বিদ্যাপীঠে অধ্যয়ন করে দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি নিজ সন্তানদেরকে যেভাবে মানুষ করেছেন, তেমনি করে ছাত্র-ছাত্রীদেরকেও তিনি যোগ্য করে গড়ে তুলেছেন। তার অবসর জীবনের মঙ্গল কামনা করি।
(এএন/এসপি/আগস্ট ৩১, ২০২৫)