ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তেজস্ক্রিয় বিকিরণ (রেডিয়েশন) এলাকায় বিশেষায়িত অগ্নিনির্বাপণ কৌশল আয়ত্তে আনতে ফায়ার ফাইটারদের জন্য ১৪ দিনব্যাপী একটি উন্নত ও আন্তর্জাতিকমানের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে। গত ১০ থেকে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত “রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে অন-সাইট ফায়ার ফাইটারদের জন্য রেডিও–রাসায়নিক, বৈদ্যুতিক, বিস্ফোরক ও অগ্নি-বিপজ্জনক এলাকায় অগ্নিনির্বাপন” শীর্ষক এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হয়। আজ শনিবার এ তথ্য জানান ট্রেনিং ডিভিশনের উপ-প্রধান মো. মনিরুজ্জামান।

জানা গেছে, ১৪ দিনব্যাপী মোট ৮০ ঘণ্টার এই গভীরতাপূর্ণ কোর্সে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয় ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কোর্স শেষে অংশগ্রহণকারীরা তেজস্ক্রিয় বিকিরণ এলাকায় অগ্নিনির্বাপণের বিশেষ কৌশল, নিরাপত্তা নীতি, বিকিরণমাত্রা পর্যবেক্ষণ, ডোজিমিটার ব্যবহার, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (PPE) ব্যবহারে পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করেন।

প্রশিক্ষণের সামগ্রিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ট্রেনিং ডিভিশনের প্রধান মো. গোলাম শাহীনুর ইসলাম এবং উপ-প্রধান মো. মনিরুজ্জামান। কোর্স সমন্বয়ে সহায়তা করেন ফায়ার সেফটি বিভাগের প্রশিক্ষক সৈয়দ নাজমুল হোসেন।

মনিরুজ্জামান জানান, কর্মসূচির প্রথম ধাপে মোট ২৩ জন ফায়ার ফাইটার অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ১ জন সিনিয়র স্টেশন অফিসার, ৩ জন লিডার, ১৫ জন ফায়ার ফাইটার এবং ৪ জন ড্রাইভার (ফায়ার ফাইটার)। সকলেই তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। দ্বিতীয় ধাপে আরও ১২ জন ফায়ার ফাইটারের প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়াধীন।

তিনি আরও জানান, প্রশিক্ষণার্থীরা এনপিপিতে স্থাপিত আধুনিক স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থার ওপর হাতে-কলমে দক্ষতা অর্জন করেছেন। ডেলুজ সিস্টেম, ওয়াটার মিস্ট সিস্টেম, নিষ্ক্রিয় গ্যাস সিস্টেম, ফোম সিস্টেম এবং ড্রাই কেমিক্যাল পাউডার সিস্টেমসহ বিভিন্ন অগ্নিনির্বাপণ প্রযুক্তি প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

প্রশিক্ষক সৈয়দ নাজমুল হোসেন বলেন, দ্বিতীয় সপ্তাহে জেনারেল কন্ট্রাকটর এতমস্ট্রয়এক্সপোর্ট (ASE) এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (NPCBL)-এর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বিশেষায়িত ফায়ার ফাইটিং যানবাহন ব্যবহারের ব্যবহারিক অনুশীলন সম্পন্ন হয়। এতে জলবাহী গাড়ী ৪টি, ফোমবাহী গাড়ি ১টি, গ্যাস ও ধোয়াপূর্ণ স্থানে অগ্নিনির্বাপনের বিশেষ গাড়ি ১টি, ফায়ার পাম্প গাড়ী ১টি, ফায়ার রেস্কিউ গাড়ী ১টি, রেডিওকেমিক্যাল মনিটরিং গাড়ি ১টি, কমিউনিকেশন অ্যান্ড লাইটিং ফায়ার ট্রাক ১টি, পাম্প-হোজ ফায়ার ট্রাক ১টি এবং এরিয়াল ফায়ার ভেহিকল ১টি ব্যবহার করা হয়।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বিকিরণ ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে এই প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার মতে, এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তা সংস্কৃতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। যা বাংলাদেশের পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। আন্তর্জাতিক মানের এই বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ রূপপুর প্রকল্পের নিরাপত্তা সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

(এসকেকে/এসপি/নভেম্বর ২৯, ২০২৫)