কাপ্তাইয়ে কম্প্রিহেনসিভ কমিউনিটি হেলথ প্রোগ্রামের ইনসেপশন সভা অনুষ্ঠিত
রিপন মারমা, রাঙ্গামাটি : রাঙামাটি জেলার কাপ্তাইয়ে কম্প্রিহেনসিভ কমিউনিটি হেলথ প্রোগ্রাম, চলমান—এর নতুন পর্যায়ের “প্রকল্পের ইনসেপশন সভা (সূচনা পর্ব)” অনুষ্ঠিত হয়েছে। খ্রীষ্টিয়ান হাসপাতাল চন্দ্রঘোনা ও স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা হিল ফ্লাওয়ার এর আয়োজনে আজ রবিবার সকালে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সিএইচডিএফ উসংবাই মারমার উপস্থাপনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন চন্দ্রঘোনা খ্রীষ্টিয়ান হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রবীর খিয়াং।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন, রাঙামাটি পার্বত্য জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন, কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. ওমর ফারুক রনি, কাপ্তাই উপজেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. হোসেন, এবং হিল ফ্লাওয়ারের কর্মকর্তা মিসেস জেনিফার অজান্তা তঞ্চঙ্গ্যা।
প্রধান অতিথির মোহাম্মদ রুহুল আমীন বলেন, কাপ্তাইয়ের কম্প্রিহেনসিভ কমিউনিটি হেলথ প্রোগ্রাম বহু বছর ধরে স্বাস্থ্য ও সচেতনতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে নতুন পর্যায়ের কার্যক্রম স্বাস্থ্য সচেতনতা, জেন্ডার উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীলতায় আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সরকারি দপ্তর ও অংশীজনদের সমন্বয়ে এই প্রকল্প এলাকার জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।অনুষ্ঠানে কম্প্রিহেনসিভ কমিউনিটি হেলথ প্রোগ্রামের বর্তমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রোগ্রামের ম্যানেজার বিজয় মারমা।
তিনি আরও জানান, প্রোগ্রামটি ২০০৬ সাল থেকে কাপ্তাই উপজেলার সকল ইউনিয়ন এবং
রাঙ্গুনিয়া ১১নং চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নে স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (MDG) অনুযায়ী মা ও শিশু স্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য, ম্যালেরিয়া, পানিবাহিত রোগ ও নিউমোনিয়া প্রতিরোধে মাঠ পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ২০১৬ সালের পর থেকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (SDG) অনুযায়ী নারীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, নারীর অধিকার, বিভিন্ন সচেতনতা কর্মশালা, সেমিনার, উঠান বৈঠক ও অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে প্রকল্পটি নতুন কর্ম এলাকা ও নতুন কার্যক্রমসহ আরও তিন বছরের জন্য পুনরায় বাস্তবায়ন শুরু করেছে। নতুন পর্যায়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা, জেন্ডার উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ প্রতিরোধ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান প্রোগ্রাম ম্যানেজার।
খ্রীষ্টিয়ান হাসপাতাল চন্দ্রঘোনা ও হিল ফ্লাওয়ারের পক্ষ থেকে সকলকে ধন্যবাদ জানানো হয়।
প্রোগ্রামটি জার্মানভিত্তিক দাতা সংস্থা “ব্রেড ফর দ্য ওয়ার্ল্ড”-এর আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে। প্রথমে খ্রীষ্টিয়ান হাসপাতাল চন্দ্রঘোনা এককভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করলেও, ২০১৯ সাল থেকে স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা হিল ফ্লাওয়ার অংশীজন হিসেবে কর্মসম্পাদন করছে।সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকল্পটি দেশের স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন খাতে সরকারের লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে চন্দ্রঘোনা খ্রীষ্টিয়ান হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রবীর খিয়াং বলেন,
কম্প্রিহেনসিভ কমিউনিটি হেলথ প্রোগ্রাম এলাকার স্বাস্থ্য সেবা, সচেতনতা বাড়ানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে সেবা পৌঁছে দিতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে।
তিনি বলেন, নতুন পর্যায়ের কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নে হাসপাতাল, হিল ফ্লাওয়ার, স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটির সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের জীবনমান উন্নয়নে প্রকল্পের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
(আরএম/এসপি/নভেম্বর ৩০, ২০২৫)
