প্রহলাদ মন্ডল সৈকত, কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে একই পরিবারের চাচাতো-জ্যাঠাতো ভাইদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে আরও ১০ জন। গুরুতর আহত ৪ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও এখনো এ ঘটনায় কেউ এজাহার দায়ের করতে আসেনি। তবে পুলিশ মোফাজ্জ্বল নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে। 

আজ রবিবার সকালে উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের ছিলাখানায় এ ঘটনাট ঘটে। হতাহতের ঘটনায় দু’পরিবারে চলছে শোকের মাতম।

স্থানীয়রা জানান, আলতাফ হোসেন ও তার ভাই আজিজার রহমান একবছর পূর্বে জমিটি কিনে নেন। পরে এটি দখলে নেয় মানিক উল্যাহ ও তার ভাই নুর মোহাম্মদ। মানিক উল্যাহ দাবি করে সে নিজে তার ভাইসহ জমিটি ক্রয় করেছে। ফলে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধই পরে সংঘর্ষে রুপ নেয়। রবিবার আলতাফ হোসেন জমিটি দখলে নেয়ার চেষ্টাকালে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।

সরজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের ছিলাখানা গ্রামে একই পরিবারের চাচাতো এবং জ্যাঠাতো ভাই মানিক উল্যাহ ও আলতাফ হোসেনের সাথে ১৬ শতক জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এনিয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েকবার শালিস বৈঠকের পরও কোন সুরাহা হয়নি। রবিবার সকালে আলতাফ গং তাদের লোকজনকে নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিটি দখল নিতে যায়। এ ঘটনায় মানিক উল্যাহ গং তাদের লোকজনসহ ধারালো অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে বাঁধা দিতে গেলে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মানিক গংয়ের পক্ষে দুজন এবং আলতাফ গংয়ের পক্ষে একজন মারা যায়। নিহতরা হলেন মানিক উল্যাহর ছেলে এরশাদুল হক (৪২) তার ভাই খাদে হোসেনের স্ত্রী কুলসুম। এরা ঘটনাস্থলেই নিহত হন। অপরদিকে আলতাফ হোসেন গংয়ের পক্ষে আলতাফ হোসেন নিজেই গুরুতর আহত হলে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

গুরুতর আহত সফিকুল ইসলাম (২৫), মর্জিনা বেগম (৪২), আজিজার রহমান (৪০) ও পারুল বেগমকে (৩২) উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
এছাড়াও অন্যান্য আহতদের নাগেশ্বরী হাসপাতাল থেকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এরা হলেন, মোফাজ্জল হোসেন (২৪), এরশাদের স্ত্রী মঞ্জুয়ারা বেগম (৩৫)সহ আরো বেশ কয়েকজন।

নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম জানান, পুলিশ সুপার নিজেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি তদারকি করছেন। এখন পর্যন্ত কেউ এজাহার দিতে আসেনি।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি সাংবাদিকদের জানান, চাচাতো ও জ্যাঠাতো ভাইদের মধ্যে জমিজমা নিয়ে সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে ২ জন এবং হাসপাতালে নেয়ার পথে আরও ১ জন মারা যায়। এখনো এজাহার পাইনি। এজাহার নিয়ে দু’পক্ষের সাথে কথা হয়েছে। বর্তমানে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মোফাজ্জ্বল নামে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

(পিএস/এসপি/নভেম্বর ৩০, ২০২৫)