স্টাফ রিপোর্টার : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট গঠনের লক্ষ্যে ১৫টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে জাতীয় পার্টি (জাপা)।

রবিবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানের হাওলাদার টাওয়ারে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় ‘জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক জোট’ নামে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক জোট গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য গঠিত হয়। এছাড়া জোটের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশের আগে সব দলের সিনিয়র নেতাদের সমন্বয়ে একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জাপার একাংশের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাপা–জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।

সভায় বক্তব্য দেন জাপার মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, জাপার সিনিয়র কো–চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট কাজী ফিরোজ রশিদ, নির্বাহী চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু, জাপার কো–চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, জেপির মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলাম, জনতা পার্টি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার মিলন ও মহাসচিব সাংবাদিক শওকত মাহমুদ।

এছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাপা (মতিন)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এএনএম সিরাজুল ইসলাম ও মহাসচিব জাফর আহমেদ জয়, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসিন রশিদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান শেখ সালাউদ্দিন সালু, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নির্বাহী সভাপতি মাওলানা আশরাফুল হক, বাংলাদেশ ইসলামিক জোটের চেয়ারম্যান আবু নাসের ওহেদ ফারুক, জাতীয় সংস্কার জোটের সভাপতি মেজর (অব.) আমীন আহমেদ আফসারী, বাংলাদেশ মানবাধিকার পার্টির চেয়ারম্যান মো. আখতার হোসেন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপার) সভাপতি মহিউদ্দিন বাবলু, বাংলাদেশ সার্বজনীন দলের সভাপতি নূর মোহাম্মদ মনির ও সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন, পিচ অ্যালায়েন্সের চেয়ারম্যান হাজী এসএমএ জলিল এবং ন্যাপ ভাসানীর মহাসচিব জহিরুল ইসলাম।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গণঅধিকার পার্টির চেয়ারম্যান মো. আক্তার হোসেন ও এস এম আশিক বিল্লাহ, ডেমোক্রেটিক পার্টি ও গণতান্ত্রিক জোট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আনিসুর রহমান।

সভায় ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ এখন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। আমরা মনে করি, আগামী ফেব্রুয়ারিতে দেশ নির্বাচনের দিকে যাবে। নির্বাচন নিয়ে দ্বিধা থাকলেও আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। জনগণের কাছে তৃতীয় ধারার সুস্থ রাজনীতি উপহার দিতে চাই। দেশ আজ বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে বিভক্ত। আওয়ামী লীগ নির্বাচন করতে পারবে কি না—সেটিও অনিশ্চিত। এ সুযোগে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করলে ভালো ফল করতে পারব।

তিনি বলেন, আমাদের জোটের মূলমন্ত্র হবে—বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, উদার গণতন্ত্র ও সব ধর্মের মানুষের সহাবস্থান। এই জোট শুধু নির্বাচনী জোট হবে না; বরং দেশের প্রতিহিংসার রাজনীতি নির্মূল করে সুস্থ রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে।

সূচনা বক্তব্যে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও জোটের মুখপাত্র এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচন এবং ভবিষ্যতে সুস্থধারার রাজনীতি বিকশিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, উদার গণতন্ত্র ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী দলগুলোকে নিয়ে বৃহত্তর জোট গঠনের উদ্দেশে আজকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় উপস্থিত ১৬টি রাজনৈতিক দলের নেতারা বৃহত্তর জোট গঠনে ঐকমত্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, চলতি সপ্তাহে ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে এ জোটের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হবে। দেশে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ থাকলে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেব। তবে এখনও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জাপার কো–চেয়ারম্যান সাহিদুর রহমান টেপা, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, লিয়াকত হোসেন খোকা, জহিরুল ইসলাম জহির, মোস্তফা আল মাহমুদ; প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসরিন জাহান রত্না, মাসরুর মাওলা, নাজমা আক্তার, মো. জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, মো. আরিফুর রহমান খান, অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক নুরুল ইসলাম মিলন, সরদার শাজাহান, মোবারক হোসেন আজাদ, জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক, ফখরুল আহসান শাহজাদা, শাহ জামাল রানা ও শেখ মাতলুব হোসেন লিয়ন।

(ওএস/এএস/ডিসেম্বর ০১, ২০২৫)