নীহার রঞ্জন কুন্ডু, ময়মনসিংহ : গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় ঘটে গেল আরেকটি হৃদয়বিদারক মানবিক বিপর্যয়। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ হারালেন তরুণ সনাতন ধর্মাবলম্বী যুবক দিপু চন্দ্র দাস (২৭)। একটি সম্ভাবনাময় জীবন মুহূর্তের নিষ্ঠুরতায় থেমে গেল চিরতরে। এ ঘটনায় জড়িত ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরীহ দিপু চন্দ্র দাসকে পরিকল্পিতভাবে ঘিরে ধরে একদল মৌলবাদীর দল। দীপুকে নির্মমভাবে পিটিয়ে পরে উলটা করে গাছে ঝুলিয়ে কিছু দুস্কৃতিকারী ব্যক্তি নির্মমভাবে আক্রমণ চালায়। সহিংসতার সেই মুহূর্তে দিপুর আর্তচিৎকারে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশের বাতাস, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসতে পারেনি তাকে বাঁচাতে। মানবিকতা যেন সেদিন হারিয়ে গিয়েছিল ভয় আর নিষ্ঠুরতার কাছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় দিপুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্না, মায়ের আহাজারি আর পরিবারের নিঃস্ব দৃষ্টিতে প্রশ্ন— “আমার ছেলের অপরাধ কী ছিল?”

ঘটনার পর দেশজুড়ে শুরু হয় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ। সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠে আসে। এমন নৃশংসতার বিচার না হলে সমাজ যে আরও অন্ধকারের দিকে যাবে, তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন মানবাধিকারকর্মীরা।

ঘটনার তদন্তে নেমে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-১৪) বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করেছে বলে র‍্যাব ১৪ কর্তৃপক্ষ জানান।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—মো: লিমন সরকার (১৯), মো: তারেক হোসেন (১৯), মো: মানিক মিয়া (২০), এরশাদ আলী (৩৯), নিজুম উদ্দিন (২০), আলমগীর হোসেন (৩৮) এবং মো: মিরাজ হোসেন আকন (৪৬)।

র‍্যাব জানিয়েছে, ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে র‍্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

দিপু চন্দ্র দাসের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়—এটি মানবতার পরাজয়, সহনশীল সমাজের ওপর এক নির্মম আঘাত। আজ প্রশ্ন একটাই—এই দেশে সংখ্যালঘুদের কি নিরাপদ থাকবে তার পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে?

সমাজ এখন ন্যায়বিচারের দিকে তাকিয়ে। দীপু দাসের গ্রামের বাড়ী তারাকান্দায় চলছে শোকের মাতম।

সচেতন সমাজের প্রশ্ন, কে তাদের এই দূঃসময়ে পাশে দাঁড়াবে, কে দিবেন আশা-ভরসা। দেশ কি তাহলে সন্ত্রাসী মৌলবাদের দিকে এগোচ্ছে?

(এনআরকে/এসপি/ডিসেম্বর ২০, ২০২৫)