ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : পাবনার ঈশ্বরদীতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার বাদ আছর ঈশ্বরদী শহরের আলহাজ্ব মোড় এলাকায় ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এই গায়েবানা নামাজে জানাজার আয়োজন করা হয়।

নামাজে ইমামতি করেন ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির ও পাবনা জেলা তালিমুল কুরআন বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা গোলাম রাব্বানী খান জুবায়ের।

ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. সাইদুল ইসলামের সঞ্চালনায় জানাজা-পূর্ব আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন পাবনা জেলা জামায়াতের আমির ও পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী–আটঘরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল, বগুড়া অঞ্চল টিমের সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলামসহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এসময় অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল বলেন, “আমরা ওসমান হাদির মতো কোনো সন্তানকে হারাতে চাই না। তিনি আমাদের দেখিয়ে গেছেন কীভাবে ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে হয় এবং দেশ ও জাতির স্বার্থে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে হয়।”

তিনি আরও বলেন, “মাত্র ৩২ বছর বয়সেই ওসমান হাদি বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। এত অল্প বয়সে এমন প্রভাব বিস্তার ইতিহাসে বিরল। তিনি যেমন প্রকৃত শত্রু চিনতে পেরেছিলেন, তেমনি তার শত্রুরাও বুঝে নিয়েছিল—তিনি একজন আপসহীন দেশপ্রেমিক।”

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণাকালে মোটরসাইকেলযোগে আসা সন্ত্রাসীদের গুলিতে মাথায় গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি ইন্তেকাল করেন।

এর আগে শনিবার বেলা আড়াইটায় রাজধানীর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের নিকট তাকে দাফন করা হয়।

ঈশ্বরদীতে অনুষ্ঠিত গায়েবানা জানাজায় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় শহীদের রূহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

(এসকেকে/এসপি/ডিসেম্বর ২০, ২০২৫)