রূপক মুখার্জি, নড়াইল : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়নের পারমল্লিকপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্বের জেরে মৃধা গ্রুপের হামলায় ঠাকুর গ্রুপের অন্তত ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে পারমল্লিকপুর গ্রামের মিজু কাজীর বাড়ির সামনে হিসাম কাজীর চায়ের দোকানে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, লোহাগড়া উপজেলার পার মল্লিকপুর গ্রামে মৃত মোশাররফ কাজীর ছেলে হিসাম কাজী (৩৫), মৃত রায়হান উদ্দিন মোল্যার ছেলে শরীফুল মোল্যা (৩৬), সাহিদ কাজীর ছেলে বুলু কাজী (৪৫)।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পার মল্লিকপুর গ্রামে মৃধা গ্রুপ ও ঠাকুর গ্রুপের মধ্যে বিবাদমান দ্বন্দ্ব নিয়ে বহুবার মারামারিসহ খুনের ঘটনাও ঘটেছে। দু’পক্ষের দ্বন্দ্ব মিটমাটের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনেকবার শালিসি বৈঠক হয়েছে। কিছুদিন আগেও লোহাগড়া থানা চত্বরে পুলিশ সুপারসহ রাজনৈতিক, সামাজিক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে মিমাংসা করা হয়। মিমাংসা হওয়ার পরেও মাঝেমধ্যে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

শনিবার রাতে মৃধা গ্রুপের লোকজন ঠাকুর গ্রুপের কয়েকজনের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন ঠাকুর গ্রুপের লোকজন। এ হামলায় ৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে হামলার ঘটনার জের ধরে রবিবার (২১ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঠাকুর গ্রুপের লোকজন অতর্কিত হামলা চালিয়ে টপি শেখ, চঞ্চল শেখ, ইসরাফিল শেখ, কালাম শেখ, আলিম কাজী, লাবলু মোল্লা, বাবুল মোল্যা, নজরুল শেখ, রইস কাজী, মোস্তাক শেখ, তারিকুল ফকির, হাফিজ শেখ, জাকির মৃধার দোকান ও বাড়ি ভাংচুর করে লুটপাট চালিয়েছে বলে প্রতিপক্ষ মৃধা গ্রুপের লোকজনের অভিযোগ।

পার মল্লিকপুর গ্রামে সহিংস ঘটনার পর লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান ও ইন্সপেক্টর (তদন্ত) অজিত কুমার রায়সহ একদল পুলিশ ঘটনাস্হল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তবে এ হামলার ঘটনা অস্বীকার করেছেন মৃধা গ্রুপের লোকজন।

(আরএম/এএস/ডিসেম্বর ২১, ২০২৫)