পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সৈনিক শামীম
একে আজাদ, রাজবাড়ী : রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার হোগলাডাঙ্গি পারিবারিক কবরস্থানে আফ্রিকার দেশ সুদানে সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলায় শহীদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বীর সৈনিক শামীম রেজার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
আজ রবিবার বিকেলে উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের হোগলাডাঙ্গি গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে যথাযথ সামরিক মর্যাদায় তাকে সমাহিত করা হয়।
এর আগে, দুপুর পৌনে ২ টার দিকে শহীদ সৈনিক শামীমের মরদেহবাহী হেলিকপ্টারটি কালুখালী মিনি স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। সেখানে থেকে সেনাবাহিনীর একটি দল মরদেহটি লাশবাহী ফ্রিজিং ভ্যানে মৃগী ইউনিয়নের হোগলাডাঙ্গি গ্রামে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়।
সেখানে স্বজন ও এলাকাবাসীর দেখার জন্য প্রায় আধাঘণ্টা মরদেহটি রাখা হয়। এরপর বাড়ির কাছে পারিবারিক কবরস্থানে নিয়ে জানাজা নামাজ শেষে যথাযথ সামরিক মর্যাদায় তাকে সমাহিত করা হয়।
৩ ভাই এক বোনের মধ্যে শামীম সবার বড়। মেজ ভাই সোহেল ফকির সৌদি আরব প্রবাসী, সেজো ভাই সোহান বেকার অবস্থায় বাড়িতেই রয়েছেন এবং একমাত্র বোন মরিয়ম খাতুন হাফেজিয়া মাদ্রাসায় পড়ালেখা করেন।
শামীম ২০১৮ সালের ১৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। গত ৭ নভেম্বর তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সুদানে যান।গত ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতাধীন কাদুগলি লজিস্টিকস বেইসে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী কর্তৃক ড্রোন হামলার চালায়। এ সময় দায়িত্বে থাকা ছয়জন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষী নিহত হন।
এছাড়া ওই ড্রোন হামলায় আহত হন নয় শান্তিরক্ষী। তাদের মধ্যে আটজন কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে অবস্থিত আগা খান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে (লেভেল ৩ হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত সৈনিক মো. মেজবাউল কবিরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। বাকিরা শঙ্কামুক্ত এবং একজন এরই মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
(একে/এসপি/ডিসেম্বর ২১, ২০২৫)
