মাদারীপুর প্রতিনিধি : মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের মোস্তফাপুরে সরদার ও হাওলাদার বংশের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয় পক্ষ অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ করেছে। এই ঘটনায় ৫ জন আহত হয়েছেন। 

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা সারে ৬টা পর্যন্ত দফায় দফায় এই ঘটনা ঘটেছে। এসময় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে এক ঘন্টা যান বাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের মোস্তফাপুর এলাকার স্থানীয় সরদার ও হাওলাদার বংশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিলো। এরপর গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই দ্ব›দ্ধ আরো চরম আকার ধারণ করে। সর্বশেষ সরদার বংশের সামচু সরদার গত আগস্ট মাসে দেশিয় অস্ত্রসহ পুলিশ গ্রেফতার করে। প্রায় সারে তিন মাস জেল খেটে সামচু সরদার জামিনে বের হন। এরপর আবার এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরবর্তীতে সরদার বংশের সামচু সরদার ও হাওলাদার বংশের হাবিব হাওলাদারের নেতৃত্বে দফায় দফায় ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এসময় উভয় পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন এবং অর্ধশত ককটেল বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটায়। এছাড়াও বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসময় চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। এছাড়াও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মোস্তফাপুরে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় একঘন্টাস যান চলাচল বন্ধ থাকায় উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে সন্ধ্যা ৬টায় যান চলাচলা স্বাভাবিক হয়। এই ঘটনায় উভয় গ্রুপের ৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এই ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপরও দুই গ্রুপের লোকজন তেড়ে আসে। পরে সন্ধ্যা সারে ৬টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে এলাকায় উত্তেজনা থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। উত্তেজনা থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে। তাছাড়া এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এলাকায় উত্তেজনা থাকায় উভয় গ্রুপের কারো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তাই তাদের বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।

(এএসএ/এসপি/ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫)