গোপালগঞ্জে ৩০ প্রশিক্ষণার্থীর উদ্ভাবন
মুক্তার অলংকারে সুদিনের হাতছানি
তুষার বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : মুক্তা ও ঝিনুকের নান্দনিক কারুকাজ খচিত অলংকার। সেই সাথে দৃষ্টিনন্দন শো-পিচ শোভা পেয়েছে। এ যেন হীরা আর জহরতের ছড়াছড়ি। গোপালগঞ্জে ৩০ উদ্যোক্তার মুক্তার অলংকার ও অন্যান্য সামগ্রীর প্রদর্শনীতে এমন দৃশ্যের দেখা মিলেছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের সার্কিট হাউস রোডের জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাকা, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ৩০ জন তরুণ ও তরুণী উদ্যোক্তার হাতে তৈরী মুক্তা, ঝিনুকের অলংকার ও শো-পিচ প্রদর্শন করা হয়।
দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্প উদ্যোক্তাদের ১৫ দিনের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ শেষে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে।
প্রকল্প পরিচালক মো: খালিদুজ্জামান বলেন, ২০২১ সালের মার্চ মাসে গোপালগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের একটি ভবনে এ প্রকল্প যাত্রা শুরু করে। এ প্রকল্প থেকে ৩ বিভাগের ১০ জেলার ৫২টি উপজেলায় ঝিনুকে মুক্তা চাষের ২শ’টি প্রদর্শনী করা হয়। এখনো বিভিন্ন উপজেলা এ প্রদর্শনী চলমান রয়েছে। এখান থেকে ১ লাখ ইমেজ মুক্তা ও বিপুল পরিমান ঝিনুক উৎপাদিত হয়েছে।
বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুক্তা ও ঝিনুকের অলংকার এবং শো-পিচের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় মুক্তার অলংকার ও অন্যান্য সামগ্রী তৈরীতে দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ শুরু করা হয়। এতে ১০ জেলার ৩০ জন তরুণ-তরুণী উদ্যোক্তা অংশ নেন। এটি মুক্তার অলংকার তৈরী নিয়ে দেশের সর্ববৃহৎ প্রশিক্ষণ। এখানে ঝিনুকে মুক্তা চাষ। মুক্তা উৎপাদন। ঝিনুক থেকে মুক্তা সংগ্রহ। মুক্তার অলংকার তৈরী ও বাজারজাত করণের উপর হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তারপর উদ্যোক্তারা প্রকটিক্যালে অংশ নেন। তারাই মুক্তা-ঝিনুকের অলংকার ও শো-পিচ তৈরী করে প্রদর্শনী করেন।
প্রকল্পের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মুহম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা গেলে তার হস্তশিল্প গড়ে তুলতে পারবে। তাদের উৎপাদিত পণ্য দেশর বাজার ছাড়িয়ে বিদেশের বাজার দখল করবে। এতে বৈদেশিক মূদ্রা আয় হবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃটিতে উদ্যোক্তারা অবদান রাখতে পারবেন।
প্রশিক্ষক বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের উর্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো: ফেরদৌস সিদ্দিকী বলেন, এটি মুক্তার অলংকার তৈরীতে বাংলাদেশর সবচেয়ে বড় আবাসিক প্রশিক্ষণ। এখানে উদ্যোক্তা সিলেকশন ভাল হয়েছে। তারা সহজেই এ প্রশিক্ষণ থেকে সব কিছুই গ্রহন করতে পেরেছে। এ কারণেই প্রদর্শনীতে তারা বেস্ট পণ্যগুলো উৎপাদন করেছে। মুক্তার অলংকারে এদের সুদিন আসবেই।
প্রশিক্ষনার্থী শারমিন হক রিমা বলেন, আমি হাতে অলংকার তৈরী করি। এ প্রশিক্ষণের ফেসবুক বিজ্ঞপ্তি দেখে আগ্রহী হাই। পরে প্রশিক্ষণে অংশ নিতে সুযোগ পাই। এখানে হাতে কলমে ঝিনুকে মুক্তা চাষ, উৎপাদন, সংগ্রহ, অলংকার তৈরী ও বাজারজাত করণের উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ লভ্য জ্ঞান কাজে লাগিয়ে আমরা অলংকার এবং শো-পিচ তৈরী করেছি। এগুলোর প্রদর্শনী হয়েছে। আমি মুক্তার অলংকার তৈরী করে দেশীয় বাজারের পাশাপাশি বিদেশের বাজার ধরতে পারব। সেখানে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।
প্রশিক্ষনার্থী মোঃ আশিকুল ইসলাম বলেন, এটি বাংলাদেশর জন্য একটি সম্ভাবনাময়ী খাত। ঝিনুকে মুক্তা চাষ করা যায়। ঝিনুকের মধ্যে মুক্তা জন্মে। ঝিনুকের খোলস দিয়ে অলংকার সহ বিভিন্ন সৌখিন পণ্য তৈরী হয়। ঝিনুকের পালফ দিয়ে করা হয় মজাদার স্যুপ। তাই ঝিনুকের কিছুই ফেলনা নয়। এখান থেকে আনন্দের সাথে প্রশিক্ষণ নিয়ে নতুন-নতুন অনেক কিছুই শিখেছি। আমি কারিগরী বিভাগে পড়াশেনা করছি। কারিগরী বিদ্যার সাথে প্রশিক্ষণের জ্ঞান কাজে লাগিয়ে ঝিনুক-মুক্তা নির্ভর শিল্প স্থাপন করব। এখান থেকে দেশের সমৃদ্ধি আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
প্রশিক্ষনার্থী সুবর্ণা আক্তার বলেন, বাড়ি গিয়ে এ ব্যাপারে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করব। এতে সরকারের আর্থিক ও কারিগরী সহযোগিতা চাই। এটি পেলে আমি অনেকদূর যেতে পারব। অনেককে আমি এ কাজে উদ্বুদ্ধ করব।
(টিবি/এসপি/জানুয়ারি ০১, ২০২৬)
