বিশ্বজিৎ সিংহ রায়, মহম্মদপুর : শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা ও গ্রামাঞ্চলে লেপ, তোশক, কোলবালিশ ও জাজিম তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কারিগররা। গ্রাম বিভিন্ন দোকানে এখন দিনভর চলছে লেপ সেলাই, তোশক তৈরি ও কোলবালিশ ভরার কাজ।

কারিগররা জানান, শীত মৌসুম এলেই উষ্ণতার চাহিদা বেড়ে যায়। ফলে লেপ-তোশকের অর্ডারও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। অনেকেই পুরোনো লেপ-তোশক নতুন করে ভরাট ও সংস্কার করে নিচ্ছেন। শীত যত বাড়ছে, ক্রেতার ভিড়ও ততই বাড়ছে।

লেপ-তোশক তৈরিতে প্রধানত তুলা, সিনথেটিক ফাইবার, রেজিন কটন, ফোম, কাপড় ও মসলিন কভার ব্যবহার করা হচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী তুলার লেপ বেশি উষ্ণ হওয়ায় এখনও বেশ জনপ্রিয়।পাশাপাশি তুলনামূলক কম দামে সিনথেটিক ফাইবারের লেপও ক্রেতাদের আগ্রহ পাচ্ছে। তোশক ও কোলবালিশ তৈরিতেও তুলা, ফাইবার ও ফোম ব্যবহার করা হচ্ছে। কাপড় হিসেবে মোটা সেলাই করা কাপড় ও প্রিন্টেড কভার ব্যবহৃত হচ্ছে বেশি।

কারিগরদের ভাষ্য অনুযায়ী, শীতের শুরু থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত লেপ-তোশকের চাহিদা সর্বাধিক থাকে। সাধারণ পরিবারের পাশাপাশি আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হোস্টেল ও মেসের জন্যও বিপুল পরিমাণে লেপ-তোশক তৈরি হচ্ছে।

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার রনজিতপুর এলাকার কারিগর মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, শীত পড়তেই লেপ-তোশকের চাহিদা বেড়েছে। প্রতি পিস লেপ এক হাজার থেকে এক হাজার একশ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সীমিত লাভে লেপ, তোশক, জাজিম ও বালিশ পাইকারিভাবে বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করা হয়। প্রতি পিস লেপ, তোশক বা জাজিম তৈরিতে তিনি ২০০ টাকা মজুরি পান।

সাইফুল ইসলামের ছেলে জানান, তিনি বাবার সঙ্গে এই কাজ করেন।প্রতিদিন নিজেরা ৫ থেকে ৭টি তোশক তৈরি করতে পারেন।

প্রতি পিস তোশক তৈরিতে ২০০ টাকা মজুরি পাওয়া যায়। আবার একটি তোশক বিক্রি করলে অতিরিক্ত ৮০ থেকে ১০০ টাকা লাভ থাকে। কোলবালিশ ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা সাধারণ বালিশ ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা হালকা তুলা ও সাধারণ কাপড়ের লেপ তুলনামূলক সস্তা।

মোটা তুলা ও উন্নত মানের কাপড়ের লেপের দাম বেশি শীত যত গাঢ় হচ্ছে, উষ্ণতার খোঁজে মানুষের ভিড় তত বাড়ছে। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহ লেপ-তোশক কারিগরদের এই ব্যস্ততা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

(বিএস/এসপি/জানুয়ারি ০৬, ২০২৬)