স্টাফ রিপোর্টার : সাবেক নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর নামে থাকা ৭০ বিঘা জমি ও ৫ কাঠার প্লট ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে তার নামে থাকা ৭০ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি জিপ গাড়ি, ছয়টি ব্যাংক হিসাব, একটি সেভিংস সার্টিফিকেট ও একটি এফডিআর অবরুদ্ধ করা হয়েছে। 

আজ সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য জানান।

এদিন দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম এসব সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ চেয়ে এ আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়েছে, আসামি খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তকালে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর নামে অর্জিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ হস্তান্তর বা স্থানান্তর অথবা অন্য কোনো পন্থায় মালিকানা পরিবর্তন বা হস্তান্তর করে বাংলাদেশের বাইরে গমন করে আত্মগোপনের সম্ভাবনা রয়েছে।

মামলাটি তদন্তের স্বার্থে আসামি খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর নামে অর্জিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধসহ ক্রোককৃত সম্পদের রিসিভার নিয়োগের জন্য আদালতে আবেদন দাখিলের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

তৎপ্রেক্ষিতে খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর নামে থাকা স্থাবর সম্পদ জব্দ ও অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধসহ জব্দকৃত সম্পত্তির রিসিভার নিয়োগ করা আবশ্যক।

শুনানি শেষে বিচারক এসব সম্পদ জব্দ ও অনবরুদ্ধের আদেশ দেন।

এর আগে গত বছরের ৮ এপ্রিল দুদকের সহকারী পরিচালক মিনহাজ বিন ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, সাবেক প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৫ কোটি ৭৩ লাখ ৮২ হাজার ৬৮৭ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন।

এ ছাড়া তার নিজ নামে ১১টি ব্যাংক হিসাব ও ৫টি কার্ড হিসেবে মোট ১৩ কোটি ৬৮ লাখ ২৩ হাজার ৫১০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন।

এজন্য আসামির বিরুদ্ধে দুদক আইন ২০০৪-এর ২৭ (১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫ (২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

(ওএস/এএস/জানুয়ারি ০৭, ২০২৬)