ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : পাবনার ঈশ্বরদীতে টানা ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে বোরো ধানের বীজতলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষি বিভাগ জানায়, সাধারণত তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামলে বোরোসহ প্রায় সব ধরনের ফসলের বীজতলা ক্ষতির মুখে পড়ে। চলতি মৌসুমে পৌষ মাসের শুরু থেকেই ঈশ্বরদীতে তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে।

আজ বুধবার ঈশ্বরদীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অথচ পৌষের শুরুতে এ তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি। এ অবস্থায় বোরো ধানের কচি চারাগুলো শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার প্রভাবে গাঢ় সবুজ রং হারিয়ে ধীরে ধীরে কুঁকড়ে হলুদাভ হয়ে পড়ছে।

কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ঈশ্বরদীতে ৪৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ঘন কুয়াশা ও নিম্নমুখী তাপমাত্রার কারণে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৮ হেক্টর জমিতে বীজতলা প্রস্তুত করা সম্ভব হয়েছে। বাকি জমিতে এখনও চারা দেওয়া যায়নি। যেটুকু বীজতলা তৈরি হয়েছে, তার বড় অংশই শৈত্যপ্রবাহে ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতি আরও এক সপ্তাহ অব্যাহত থাকলে বোরো ধানের চারা রোপণের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।

কৃষকরা জানান, অতিরিক্ত যত্ন নেওয়া সত্ত্বেও বীজতলার চারাগুলোকে হলুদাভ হওয়া থেকে রক্ষা করা যাচ্ছে না। কৃষি বিভাগ থেকে বীজতলা ঢেকে রাখা, প্রতিদিন সকালে চারার ওপর জমে থাকা কুয়াশা ঝেড়ে ফেলা, নিয়মিত সেচ দেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ছত্রাকনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ দিন ধরে এলাকায় টানা তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা বিরাজ করছে। এ সময়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি থেকে নেমে ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। বর্তমানে এলাকায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। গত ১৬ ডিসেম্বর (১ পৌষ) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি। এরপর ২৬ ডিসেম্বর তা নেমে আসে ১০ ডিগ্রিতে, ৩১ ডিসেম্বর শুরু হয় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ এবং সেদিন তাপমাত্রা নেমে আসে ৯ দশমিক ২ ডিগ্রিতে। জানুয়ারির শুরু থেকে তা আরও কমতে থাকে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) মৌসুমের সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

এই পরিস্থিতিতে বোরো ধানের বীজতলার পাশাপাশি জনজীবন ও গবাদিপশু নিয়েও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা।

উপজেলার উমিরপুর গ্রামের কৃষক আদম আলী বলেন, “চারা রোপণের উপযোগী হওয়ার আগেই হলুদ হয়ে যাচ্ছে। কুয়াশার প্রভাব কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না।”

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন জানান, তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রির নিচে নামলে বীজতলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেখানে ঈশ্বরদীতে তাপমাত্রা নেমেছে ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রিতে।

তিনি বলেন, “লক্ষ্যমাত্রার ৪৫ হেক্টর জমির মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৮ হেক্টরে বোরো ধানের চারা প্রস্তুত হয়েছে। বীজতলা রক্ষায় কৃষকদের নিয়মিত সেচ, কুয়াশা ঝেড়ে ফেলা, সালফারজাতীয় ছত্রাকনাশক প্রয়োগ এবং রাতে সাদা পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”

(এসকেকে/এসপি/জানুয়ারি ০৭, ২০২৬)