তুষার বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাদের পদত্যাগের হিড়িক যেন থামছে না। গত ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর থেকে আজ অব্যধি অন্ততঃ তিন শতাধিক বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা পদত্যাগ করেছেন। প্রতিদিনই কোন কোন ইউনিয়নের নেতাকর্মিরা সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের ঘোষণা দিচ্ছেন। আর জেলার মুকসুদপুর ও কোটালীপাড়া উপজেলায় তুলনামুলক ভাবে বেশি। এরপর রয়েছে টুঙ্গিপাড়া ও কাশিয়ানী উপজেলা।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে ও গতকাল বুধবার রাতে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাবে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে অওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের দু’ নেতা পদত্যাগ করেন।

এরা হলেন- টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি বাইন ও গোপালপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুবেল মন্ডল।

গত মঙ্গলবার(৬ জানুযারী)মুকসুদপুর উপজেলার মহারাজপুর, ভাবড়াশুড় ও বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর‌্যায়ের ৫০ নেতা পদত্যাগ করেন।

গত রবিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে মুকসুদপুর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের বনগ্রাম ও গোহালা ইউনিয়নের সিন্দিয়াঘাট এলাকায় এবং সকালে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাবে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে ১৪ বিভিন্ন পর‌্যায়ে নেতা পদত্যাগ করেন।

গত ৩ জানুয়ারি টুঙ্গিপাড়ার বিভিন্ন পর‌্যায়ের তিন নেতা গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়ার একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগ করেন।

২৭ ডিসেম্বর পিঞ্জুরী ইউনিয়নের বিভিণ্ন পর‌্যায়ের ১৭ নেতা ঘাঘর বাজার বিএনপি অফিসে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগ করেন। ওই দিনই আবার তারা বিএনপিতে যোগদান করেন।

২৩ ডিসেম্বর টুঙ্গিপাড়ার ৩ নেতা ও মুকসুদপুরের খান্দারপাড় ইউনিয়নের বিভিন্ন পর‌্যায়ের ১৪ নেতা পদত্যাগ করেন।

২২ ডিসেম্বর খান্দারপাড় ইউনিয়নের বিভিন্ন পর‌্যায়ের ৯ নেতা পদত্যাগ করেন। ২০ ডিসেম্বর টুঙ্গিপাড়ার বিভিন্ন পর‌্যায়ের ১৩ নেতা ও মুকসুদপুরের দক্ষিণ জলিলপাড়ের বিভিণ্ন পর‌্যায়ের ১০ নেতা পদত্যাগ করেন।

পদত্যাগকারীরা সংবাদ সম্মেলনে দাবী করেন, তারা স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সব পদ-পদবি থেকে পদত্যাগ করেছেন। এখন থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের আর কোনো সম্পর্ক নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না। অনেকে আবার শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দিচ্ছেন। কেউ কেউ আবার বলছেন, তাদেগরকে পদ-পদবী দেওয়া হয়েছে তা তারা জানতেন না।এখন জানতে পেরেছেন তাই পদত্যাগ করছেন।

তবে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, অনেকেই জানিয়েছেন গত ৫ আগস্টের পর গোপালগঞ্জে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনায় গোপালগঞ্জের বিভিণ্ন থানায় অন্ততঃ দুই ডজন মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলা নামে বেনামে ২০ সহস্রাধিক মানুষকে আসামি করা হয়েছে। এরমধ্যে অন্ততঃ ৫ শ’ মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে ।এরমধ্যে অনেককেই গ্রেফতার করে ওই সব মামলা কোর্টে পাঠানো হয় ।এসব আতংকে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর‌্যায়ে নেতারা পদত্যাগ করছেন।

জেলা বিএনপি’র আহবায়ক শরীফ রফিকুজ্জামান বলেন, আওয়ামী লীগের কিছু উৎশৃঙ্খল নেতা-কর্মীর সাম্প্রতিক সময়ের কার‌্যকলাপের কারণে তাদের প্রতি বিতশ্রদ্ধ হয়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর‌্যায়ের নেতারা দল থেকে পদত্যাগ করছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করবে, তাই সরকারি দলের সাথে থাকার জন্যও কেউ কেউ পদত্যাগ করছেন। তবে, আওয়ামী লীগের যে সব নেতাকর্মির নামে কোন ধরণের অভিযোগ বা বদনাম নাই, তারা যদি বিএনপিতে আসতে চায় তাদের সাদরে গ্রহণ করা হবে।

(টিবি/এসপি/জানুয়ারি ০৮, ২০২৬)