কালিগঞ্জে মন্দিরের জায়গায় অবৈধ দখল উচ্ছেদ না হতেই আবারো দখল
রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উচ্ছেদ করা হলেও আবারো জবরদখল করা হয়েছে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার থালনা দক্ষিণপাড়া সার্বজনীন শ্মশানঘাট ও শ্রীশ্রী তারকনাথ ধামের জমি। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় পিটিয়ে জখম করা হয়েছে মন্দিরের তিনজন পূজারী ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিকে। ফলে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে জবরদখলকারিরা।
সরেজমিনে আজ শুক্রবার দুপুরে থালনা দক্ষিণপাড়া সার্বজনীন শ্মশানঘাট ও শ্রীশ্রী তারকনাথ ধাম মন্দিরে যেয়ে দেখা গেছে শ্মশানের চিতা নেভানো ও লাশ স্নানের কাজে ব্যবহৃত পুকুরটির উত্তর পূর্ব কোনা দখল করে থালনা- কালিগঞ্জ সড়কের পাশে ইউসুফপুর গ্রামের আলী বক্স গাজী ও তার ছেলে আকিম গাজী ঘরবাড়ি বানিয়ে বসবাস করছেন। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট তাজুল ইসলামের উপস্থিতিতে গত বছরের ১১ নভেম্বর তাদের ঘরের চাল খুলে দেওয়া হলেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তারা ভিতরের দিকে চাল বানিয়ে বসবাস করছেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতেই তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলেন আকিম গাজী। বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন বাসদ নেতা অ্যাড, খগেন্দ্রনাথ ঘোষ, সংসদীয় নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৩ আসন থেকে মনোনীত প্রার্থী রুবেল হোসেন এর সাথে। একপর্যায়ে আকিম পরিচয় জেনে ভিডিও করতে শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর ছুঁটে আসেন তার স্ত্রী রাবেয়া ও ভাই তকিম গাজী। তারা বলেন, সাবেক চেয়ারমান আব্দুল লতিফ ও ইউপি সদস্য আবুল কালামের পরামর্শ মতো ম্যজিষ্ট্রেট ঘর ভেঙে দেওয়ার পরও ভিতরে চাল বাড়িয়ে বসবাস করছেন।
থালনা দক্ষিণপাড়া সার্বজনীন শ্মশানঘাট ও শ্রীশ্রী তারকনাথ ধামের পূজারী সতী রানী সরকার জানান, ৩০ বছর ধরে তিনি এ মন্দিরে পূজা অর্চনা করে আসছেন। ৩৫ শতক রেকডীয় জমিতে মন্দির ও শ্মশান থাকলেও লাশ সৎকারের সুবিধার্থে থালনা মৌজার সাত থেকে আট শতক সরকারি খাস জমিতে তারা একটি পুকুর নির্মাণ করেন। আবেদন করেন ডিসিআরের। ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর ইউসুফপুর গ্রামের আলী বক্স গাজী ও তার ছেলে আকিম গাজী রাতের আঁধারে সেখানে ঘর তুলে বসবাস শুরু করে। প্রতিকার চেয়ে শ্মশান ও মন্দির সংশ্লিষ্ট ১২১ জন জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন।
জেলা প্রশাসক কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুজা মন্ডলের মাধ্যমে গত বছরের ১৯ জানুয়ারি যথাযথ তদন্ত প্রতিবেদন পেয়ে ১নং উচ্ছেদ মামলার মাধ্যমে গত বছরের ২৭ মার্চ আলী বক্স গাজী ও আকিম গাজীকে নিজ খরচে ঘরবাড়ি ভেঙে চলে যাওয়ার জন্য নোটিশ দেন। তারা চলে না যাওয়া সংক্রান্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার যথাযথ প্রতিবেদন পেয়ে জেলা প্রশাসকের অফিসেন ২ নং উচ্ছেদ মামলার মাধ্যমে গত বছরের ১১ নভেম্বর ম্যাজিষ্ট্রেট তাজুল ইসলাম ওই দুটি বসতবাড়ির ঘরের চাল অপসারন করে চলে যান। রাতেই আকিম গাজী ভেঙে দেওয়া ঘরের পশ্চিমপাশে চাল বানিয়ে বসবাস শুরু করেন। ২১ ডিসেম্বর জবরদখলের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে আবারো অভিযোগ করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনিসহ লতিকা সরকার, করুনা সরকারকে মারপিট করা হয়। খবর পেয়ে মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কার্তিক সরকার ছুটে এলে আকিমের স্ত্রী রাবেয়া ও তাকিম গাজীর স্ত্রী শরিফা খাতুন তাকেও মারপিট করে। একপর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করে। বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ করায় জবরদখলকারিদের পক্ষে আব্দুল লতিফ ও আবুল কালাম অবস্থান নেন। গত বুধবার থানায় শালিসি বৈঠকে আকিম গাজী মারপিটের কথা স্বীকার করে মুচলেকা দেয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আকিম গাজী জানান, শ্মশান মন্দির কমিটির অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ওই খাস জমি তারা ২০২৪ সালের পহেলা অক্টোবর পিন্টু বৈরাগীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ৪০ শতক জমি নিয়েছেন। আবার একই খাস জমি ঘরবাড়িসহ গত বছরের ৪ জানুয়ারি চাঁদখালি গ্রামের আবু বক্কর ছিদ্দিকের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা দিয়ে দখল স্বত্ব কিনেছেন মর্মে দাবি করেন। তাদের গ্রামে ৫ শতক জমি থাকলেও বসবাসের জন্য যথেষ্ট নয় বলে ঠাণ্ডাজনিত কারণে সরকারিভাবে ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়ার পরও তারা তাবু করে বসবাস করছেন মর্মে জানান আকিম গাজীর স্ত্রী রাবেয়া খাতুন।
এ ব্যাপারে বিএনপি নেতা আব্দুল লতিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
(ওএস/এসপি/জানুয়ারি ০৯, ২০২৬)
