ফরিদপুরে উদ্ধার শক্তিশালী বোমার নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠলো শহর
রিয়াজুল রিয়াজ, বিশেষ প্রতিনিধি : ফরিদপুরে সেনাবাহিনীর কর্তৃক শনিবার উদ্ধারকৃত শক্তিশালী ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বোমাটি আজ রবিবার সকালে ধ্বংস করা হয়েছে। রিমোট কন্ট্রোল দ্বারা পরিচালিত শক্তিশালী এ বোমাটির নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের সময় কেঁপে ওঠে আলীপুর ব্রীজ সংলগ্ন শহরের ওই এলাকা।
এর আগে, ফরিদপুর শহরের আলীপুর ব্রিজ এলাকায় পড়ে থাকা একটি ব্যাগ থেকে বোমা বা ককটেল সাদৃশ্য বস্তু উদ্ধার করেছে যৌথবাহিনী। শনিবার ভোরে আলীপুর ব্রিজ সংলগ্ন বস্তি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ব্যাগটি দেখতে পায় সেনাবাহিনী। এরপর সেনা সদস্যরা এলাকাটি ঘিরে রাখেন। পরে তাদের সাথে পুলিশ, একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এসময় শহর জুড়ে বোমা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফরিদপুরে বোমা ডিসপোজাল টিমের কোনো এক্সপার্ট সদস্য না থাকায়, বা কয়েকটি সংস্থায় দু'একজন এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সদস্য থাকলেও মোবা নিস্ক্রিয় করতে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা পোশাক না থাকায় ঢাকায় খবর দেওয়া হয়। পরে ঢাকা থেকে বোমা ডিসপোজাল টিমের সদস্যরা এসে বোমা সাদৃশ্য বস্তুটিকে ঘটনাস্থলের অদূরে কুমার নদের তীরে নিয়ে নিস্ক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নেন।
ওই সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এ বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমির হোসেন উপস্থিত গণমাধ্যমকে জানান, 'উদ্ধারকৃত বস্তুটি বোমা নাকি ককটেল—এ মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে, এটি লাল টেপ দিয়ে পেচানো, এর সাথে বেশকিছু সংযুক্ত তার জড়ানো বোমা বা ককটেল সাদৃশ্য বস্তু।'
তিনি আরো জানান, 'বিশেষজ্ঞ টিম নিশ্চিত না করা পর্যন্ত বস্তুটি স্পর্শ করা হচ্ছে না'। জননিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের এলাকায় বাড়তি সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান আজমির।
ফরিদপুর শহরের ব্যস্ততম এলাকা আলীপুর সেতুতে স্কুল ব্যাগের ভেতর লুকিয়ে রাখা এ শক্তিশালী রিমোট কন্ট্রোল বোমাটি উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টা পর বিশেষ ব্যবস্থায় নিষ্ক্রিয় করলো পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) সদস্যবৃন্দ।
এর আগে, গতকাল (শনিবার) রাত সোয়া আটটার বোমাটি নিরাপদ স্থানে রেখে পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর করে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। বোমা উদ্ধারের ঘটনায় শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে শনিবার থেকে শহরটি নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখে স্থানীয় প্রশাসন।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের গোয়ালচামট প্রতিমা বিসর্জন ঘাট এলাকায় কুমার নদের পাড়ে বোমাটি নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়। ঢাকা থেকে আগত এটিইউ’র ১০ সদস্যের বোমা ডিসপোজাল দল এ কার্যক্রম পরিচালনা করে।
এটিইউ বোমা ডিসপোজাল দলের পরিদর্শক শংকর কুমার ঘোষ সাংবাদিকদের জানান, উদ্ধার করা বোমাটি একটি শক্তিশালী ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) রিমোট কন্ট্রোল ডিভাইস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিলো। এটি সাধারণ বোমার তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী। সময়মতো নিষ্ক্রিয় না করা গেলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশেষ নিরাপত্তা পোশাক পরিধান করে বোমা ডিসপোজাল দলের সদস্যরা বালুর বস্তা ও বুলেটপ্রুফ সরঞ্জাম দিয়ে ঘিরে রাখা বোমাটির কাছে যান।
পরে নতুন তার সংযুক্ত করে প্রায় ৫০ থেকে ১০০ মিটার দূর থেকে ইলেকট্রিক সংযোগের মাধ্যমে বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিস্ফোরণের সময় বিকট শব্দে প্রায় ২০ ফুট উঁচুতে ধোঁয়া এবং প্রায় ৫০ ফুট পর্যন্ত স্প্লিন্টার ও ধাতব অংশ ছিটকে পড়ে। পরে আলামত সংগ্রহ করে নিয়ে যায় এটিইউ।
এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। তবে শক্তিশালী এ বোমাটি কে বা কারা রেখেছিলো সে বিষয়ে কিছুই জানা যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম।
(আরআর/এসপি/জানুয়ারি ১১, ২০২৬)
