রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে চারটি সিসি ক্যামেরা, কাঁটা তারের বেড়া ও ইটের প্রাচীর দেওয়া নিয়ে বার বার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করায় ও ঘর পোড়ানো মামলা তুলে নিতে রাজী না হওয়ায় চম্পা রানী মন্ডলকে বাড়ি থেকে তুলে এনে সামাদ গাজী ও তার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে। 

আজ রবিবার দুপুর সোয়া দুটোর দিকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের চম্পাফুল কালীবাড়ি বাজারের পাশে সুনীল মন্ডলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। চম্পা রানী মন্ডলের বাবার নাম সুনীল মন্ডল।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাালে চিকিৎসাধীন চম্পা রানী মন্ডল (৩২) জানান, তার বাবা সুনীল মন্ডলের সঙ্গে একই এলাকার বেলায়েত গাজীর ছেলে সামাদ গাজী ও তার ছেলে আলমগীর কবীরের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। তাদের বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেওয়া মামলা তুলে নেওয়ার জন্য সামাদ গাজী ও আলমগীর কবীর বিভিন্ন সময়ে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিল। তাদের নামে মিথ্যা ১০৭ ধারার মামলাও করে সামাদ গাজী। আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে সামাদ গাজী ও তার ছেলে আলমগীর কবীর গত ১১ ও ১২ ডিসেম্বর ৫০ জনেরও বেশি লাঠিয়াল ভাড়া করে বাবার চার বিঘা জমির চারিধার কাটা তারের বেড়া, তুলসী মন্দির ও টিউবওয়েল বাইরে রেখে ঘরে ঢোকার দুই হাত করে বা রেখে ইটের প্রাচীর দিয়ে তাদের পরিবারকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। পরিবারের সদস্যদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে তাদের বাড়ির চারিপাশে চারটি সিসি ক্যামেরা বসায় আলমগীর কবীর। অভিযোগ পেয়ে ১১ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার কালিগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিলেও পুলিশ তা বাস্তবায়ন করেনি। একপর্যায়ে ১২ ডিসেম্বর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অভিযোগ পেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কালিগঞ্জ সহকারি কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দিলে তিনি ১৪ ডিসেম্বর ঘটনাস্থলে যান।

আদালতের আদেশ অমান্য করে আলমগীর কবীর সুনীল মন্ডলের পরিবারের সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত হন। এরপরও সামাদ গাজী জবরদখলকৃত জমিতে চাষাবাদের কাজ করার পাশাপাশি সুনীল মন্ডলের আরো সাড়ে চার বিঘা জমিতে বাঁশ কাটা, চাষ করাসহ সকল কাজ বন্ধ করে দেন। সুনীল মন্ডলের পরিবারকে অবরুদ্ধ করার বিষয়টি গত ৭ জানুয়ারি জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হয় আদালতে। তাৎক্ষণিক বিচারক সুনীল মন্ডলের পরিবারকে অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্তির জন্য নবনির্মিত প্রাচীর, কাাঁটা তারের বেড়া, ও প্রাইভেসি নষ্টকারি সকল সিসি ক্যামেরা অপসারণের জন্য মুঠো ফোনে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তারকে নির্দেশ দেন। পরদিন রাত ৮টার দিকে চম্পাফুল ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মুকিত হোসেন ও পুলিশ এলে চারটি সিসি ক্যামেরা খুলে নিলেও আলমগীর কবীর প্রাচীর ও কাঁটা তারের বেড়া সরিয়ে নেয়নি। বিষয়টি তাৎক্ষণিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ পুলিশের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়।

একপর্যায়ে শনিবার সন্ধ্যায় কেবলমাত্র তার ভাই শঙ্করের স্ত্রী সরস্বতী ম-ল একা বাড়িতে থাকার সূযোগে ধর্ষণ, হত্যা ও ঘর পোড়ানো মামলার আসামী সামাদ গাজী তার ঘরে ঢোকার চেষ্টা করে। রবিবার দুপুর সোয়া দুটোর দিকে তুলসী মন্দিরে যাওয়ার জন্য নতুন প্রাচীরের একাংশ ছাড়িয়ে ফেললে সামাদ গাজী, বালাপোতার নূরুজ্জামান, চম্পাফুলের শহীদুল ইসলাম, হাতেম আলীসহ ৬/৭ জন তার উপর হামলা চালায় তাকে চ্যাংদোলা করে তুলে নিয়ে সামাদ গাজীর বাসার পাশে রেখে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়। হাসপাতালে ভর্তি হলে বা থানায় গেলে তাদের পরিবারের সদস্যদের খুন করে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় ঘরের মধ্যে ঢুকে ভাই শঙ্কর মন্ডলকেও তুলে আনার চেষ্টা করে সামাদ গাজী ও নূরুজ্জামান। খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।

এ ব্যাপারে পুলিশের উপস্থিতিতে সামাদ গাজী বলেন, তাদের নবনির্মিত প্রাচীর ভাঙতে থাকায় চম্পাকে তুলে সতর্ক করা হয়েছে।

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুয়েল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ৯৯৯ এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়।

কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার জানান, উভয়পক্ষকে সোমবার সকাল ১০টায় তার কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

(আরকে/এসপি/জানুয়ারি ১১, ২০২৬)