মাদারীপুরে স্কুল শিক্ষককে হাতুড়িপেটা
মাদারীপুর প্রতিনিধি : মাদারীপুর সদর উপজেলার চরমুগরিয়া মার্চেন্টস উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী গণিত শিক্ষক অনাদি বিশ্বাসকে (৩৫) বখাটেরা হাতুড়ি পেটা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছে।
আজ সোমবার দুপুরে বিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। এর আগে সকালে বখাটেরা স্কুলে যাবার পথে শিক্ষকের উপর হামলা করেছে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
শিক্ষক অনাদি বিশ্বাস মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের চৌহদ্দি গ্রামের অতুল চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে মাদারীপুর শহরের মাস্টারকোলনী এলাকায় ভাড়া থাকেন।
পুলিশ, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মত বিদ্যালয়ে যাবার জন্য সোমবার সকালে শিক্ষক অনাদি বিশ্বাস তার বাসা থেকে বের হন। বিদ্যালয়ে পিছনের ফটক দিয়ে ঢুকতে যান। এসময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা দুই বখাটে তার উপর হামলা করেন। শিক্ষককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। এসময় শিক্ষকের চিৎকারে তার সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে অজ্ঞাত ওই দুই কিশোর হামলাকারী পালিয়ে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে ও অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবীতে দুপুরে বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। এতে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরদার আব্দুল হামিদ, সহকারী শিক্ষক মো. আল মামুন, আরিফুজ্জামান মুনশি, মিজানুর রহমান প্রমুখ।
আহত শিক্ষক অনাদি বিশ্বাস বলেন, মুখে মাস্ক পড়া দুইজন কিশোর বয়সের ছেলে আমার উপর হামলা করেছে। আমাকে হাতুরি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরদার আব্দুল হামিদ বলেন, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে আমরা পুলিশের কাছে দিয়েছি। লিখিত অভিযোগও দিয়েছি। আশা করছি দ্রুত হামলাকারীদের খুজে বের করা সম্ভব হবে। সেই সাথে অপরাধীদের কঠিন বিচার দাবী করছি।
বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক মিলন হোসেন বলেন, শিক্ষকের উপর এমন হামলা কিছুতেই মেনে নেয়া যায়না। তাই আমরা দ্রুত এই ঘটনার বিচার চাই।
বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী আলিফ হোসেন বলেন, আমাদের গণিতে শিক্ষক খুবই ভালো। কেন তার উপর এই হামলা হয়েছে, তা খুজে বের করে অপরাধীদের শাস্তির দাবী জানাই।
মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক অখিল সরকার বলেন, ঐ শিক্ষকের মাথায় গুরুতর জখম আছে। তাই ৬টি সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই ঘটনায় আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ অপরাধীদের ধরতে কাজ করছে। আশা করছি দ্রুত তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। তাছাড়া একটি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে একাধিক টিম কাজ করছে।
(এএসএ/এসপি/জানুয়ারি ১২, ২০২৬)
