তুষার বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : দুস্থ ও অসহায় মানুষকে বিতরণের জন্য ২১ কম্বল বরাদ্দ পান ইউপি মেম্বর। এরপর  উপকারভোগীদের (মাস্টাররোল) তালিকা জমা দেন। ২ জানুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কম্বল গ্রহন করেন। পরে ওই ইউপি মেম্বর কম্বল বাজার বিক্রি করে দেন। 

গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রুঙ্গু খানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সম্প্রতি জানজানি হওয়ার পর তোলপাড় শুরু হয়েছে।

ইউপি মেম্বর উপকারভোগীদের তালিকায় ২১টি মোবাইল নম্বর উল্লেখ করেছেন। এরমধ্যে ২ টি নম্বরে কল করে জানাগছে তারা কম্বল পাননি। এরমধ্যে ১ একজন খুলনা ও অপরজন চট্টগামে থাকেন বলে জানিয়েছেন। স্থানীয় ৩ জনের সাথে কথা বলে জানা গেছে তারও কম্বল পাননি। বাদবাকী ১৬টি মেবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। ১৬টি নম্বর অস্তিস্বহীন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পাটগাতী ইউনিয়ন পরিষদ সুত্রে জানা যায়, চলতি শীত মৌসুমে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য ইউনিয়নের ৯ টি ওয়ার্ডে ১৫০ পিচ কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয় উপজেলা প্রশাসন থেকে। তার মধ্যে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দরিদ্রদের বিতরনের জন্য ২১টি কম্বল ইউপি সদস্য রুঙ্গু খানকে দেওয়া হয়।

কিন্তু ওই ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শীত মৌসুমে সরকারি কোন কম্বল পাননি তারা। এতে প্রকৃত দরিদ্ররা শীতের কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

তালিকায় নাম থাকা আবেজান বেগম, নাসিমা বেগম ও জুলি খানম বলেন, তালিকায় আমাদের নাম থাকলেও সরকারি কোন কম্বল পাইনি। ইউপি সদস্য রুঙ্গু খান আমাদের কোন কম্বল দেয়নি। তাই আমরা শীতের কষ্টে দিন কাটাচ্ছি।

এছাড়া তালিকায় নাম ও নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে মাজেদা বেগম ও রোজিনা খানম জানান, তারা খুলনা সোনাডাঙ্গা ও চট্রগ্রামে থাকেন । আর বাকি নাম্বার গুলো বন্ধ ও ব্যবহৃত হচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাটগাতী ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্য বলেন, ভূয়া উপকারভোগীর তালিকা পরিষদে জমা কম্বল গুলো গ্রহণ রুঙ্গু মেম্বার। পরিষদ থেকে কম্বল গুলো রাসেল নামের এক ভ্যানচালকের ভ্যানে করে নিয়ে পাটগাতী বাজারে বিক্রি করে দেন। যেটা হতদরিদ্রের পাওয়ার কথা সেগুলো না দিয়েই বিক্রি করেছেন তিনি।

তবে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রুঙ্গু খান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মুঠোফোনে বলেন, কোন কম্বল বিক্রি করিনি। কম্বল গুলো তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে বিতরন করেছেন বলে দাবি করে কলটি কেটে দেন।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলম বলেন, দরিদ্রদের শীতের কষ্ট দূর করতে সরকার কম্বল দিয়েছেন। যদি উপকারভোগীদের না দিয়ে ইউপি সদস্য বিক্রি করে থাকে সেটা অপরাধ। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

(টিবি/এসপি/জানুয়ারি ১৫, ২০২৬)