স্টাফ রিপোর্টার : হিন্দু সম্প্রদায় ও বিএনপি’র মধ্যে যে অদৃশ্য দেওয়াল ছিল তা ভেঙে নতুন সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাতে নগরের দেওয়ানজি পুকুর পাড় চট্টগ্রাম জেলা সৎসঙ্গ মিলনায়তনে সনাতনী নাগরিক কমিটির উদ্যোগে সনাতন সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, মঠ ও মন্দিরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

আবু সুফিয়ান বলেন, ভোট হচ্ছে মানুষের মৌলিক অধিকার। সেটি আপনি জোর করে নিতে পারবেন না।

আওয়ামী লীগ গত ১৫ বছরে নির্বাচনগুলোতে জোর করে ভোট নিতে গিয়ে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। সাধারণ সনাতনীরাও গত কয়েকটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। এখন সময় বদলে গেছে। আপনার আমানত ভোটটি দিতে আপনি অবশ্যই ভোটকেন্দ্রে যাবেন।

যাকে ইচ্ছে তাকে ভোট দিবেন কিন্তু আপনার নিরাপত্তার দায়িত্ব আমরা এবং বিএনপি নেতাকর্মীরা নিবে। ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধা বা ভোট দিতে যারা বাধা দিবে তাদেরকে প্রতিরোধ করবে বিএনপি।

তিনি বলেন, বিএনপি সকল ধর্মের মানুষ, সকল নাগরিকের নিরাপদ বাংলাদেশ চায়। সেই লক্ষ্যে রাষ্ট্র মেরামতের জন্য বিএনপি ৩১ দফা রূপরেখা দিয়েছে।

সেখানে যেসব দফা উল্লেখ করা হয়েছে তা বাস্তবায়ন করতে পারলে বৈষম্যহীন একটি রাষ্ট্র বিনির্মিত হবে। অনেকে এখনো নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। যারা বুঝতে পেরেছে নির্বাচন হলে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে তারা নতুন নতুন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে। তারা দেশকে অস্থিতিশীল করে ফায়দা লুটতে চায়। কারণ বর্তমানে তারা সরকারের ভেতর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে।

আবু সুফিয়ান বলেন, আপনারা অনেকে চিন্ময় প্রভুর কথা বলেছেন। আমিও কয়েকটি সভায় তাঁর সঙ্গে কথা বলেছি। পরে বিএনপি নেতাকে দিয়ে একটি মামলা করানো হলো। বিএনপি তাকে বহিষ্কার করেছে। যখন আমরা তদন্ত করে দেখলাম, ওই বিএনপি নেতাকে একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা ও একটি দল জোর করে তার কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়েছে। এখানেই বুঝা যায়, পরিকল্পিতভাবে বিএনপিকে হিন্দুদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিতে এ কাজ করেছে ওই দলটি।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপিকে হিন্দুদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল। আমরা বিভিন্ন পূজায় উপহার পর্যন্ত দিতে যেতে পারেনি। তারা বাধা দিয়েছে। এখন সময় এসেছে- আপনারা বিএনপির সঙ্গে আসুন। আমাদের সম্পর্কে জানুন। দেখবেন, বিএনপি সব ধর্মের মানুষের জন্য কাজ করে। ধর্মীয় বিভেদ করে না, কোনো বিভাজন করে না। হিন্দুদের নেতারা বিএনপির কমিটিতে থাকবে, সামনে এমপি হবে, মন্ত্রী হবে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার জন্য আপনারা ঐক্যবদ্ধ হোন। সামনের বাংলাদেশ হবে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, শান্তির পক্ষে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা অরবিন্দ পাল অরুণ। শুরুতে পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন হাজারী গলি জয়মাতা কালী মন্দিরের রতন আচার্য্য। শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরি সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ’র সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি দীপক কুমার পালিত, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লায়ন আর কে দাশ রুপু, কার্যকরি সভাপতি আয়ান শর্মা, চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ ব্যানার্জি।

বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট নিতাই প্রসাদ ঘোষ, অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ, বিশ্বজিৎ দত্ত বাবু, রাজীব ধর তমাল, রতন মজুমদার, উজ্জ্বল বরণ বিশ্বাস, অশোক কুমার চক্রবর্তী, সুমন ঘোষ বাদশা, সুজন দাশ, অধ্যাপক শিপুল দে, এস কে নাথ শ্যামল, টিটু শীল, মাস্টার রণজিৎ কুমার দাশ, রাজেশ চক্রবর্তী, দেবু চক্রবর্তী, লিটন শীল, রাজীব নন্দী বাবু, সুজন বল, সোমা রাণী দাশ, রোমারিও সূত্রধর।

উপস্থিত ছিলেন ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আনোয়ার হোসেন লিপু, নুরুল আজিম হিরু, লায়ন তপন কান্তি দাশ, প্রকৌশলী আশুতোষ দাশ, রবিশংকর আচার্য্য, অ্যাডভোকেট সলিল গুহ, লায়ন শংকর সেনগুপ্ত, প্রকৌশলী সনজিৎ বৈদ্য, ডা. রাজীব বিশ্বাস, বিশ্বজিৎ পালিত, সুভাষ দাশ, অনুপ রক্ষিত, বাবলু চৌধুরী, দুলাল মল্লিক, ধীরেন্দ্র দাশগুপ্ত, মৌসুমী চৌধুরী, দিপতি দাশ, মীনা চৌধুরী, রীপা চৌধুরী, অনিন্দ্য চৌধুরী, মুন্নী চৌধুরী, বিশু রায় চৌধুরী, রাজীব মজুমদার, রুবেল দাশ, ছোটন সরকার, নিখিল দে, রতন কান্তি দাশ, শুভদ্বীপ দে, তূর্য, শুভ দাশ গুপ্ত, দেবাশীষ সেন, সুব্রত ভৌমিক,পলাশ সেন, সুজন কুমার ভট্টাচার্য্য, বিজয় চৌধুরী, অপু দাশ, ডা. নেহেরু লাল ধর, অ্যাডভোকেট সুব্রত শীল রাজু, অ্যাডভোকেট শ্যামল চৌধুরী, বিজন পাল, নিত্য দেব প্রমুখ।

(ওএস/এএস/জানুয়ারি ১৮, ২০২৬)