মাদারীপুর প্রতিনিধি : ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুরে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ইজিবাইকে চাপা দিয়ে খাদে পড়ে যায়। এই ঘটনায় ৭ জন মারা গেছেন। 

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা-বরিশাল মহাড়কের মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের ঘটকচর এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে।

নিহতরা হলেন মাদারীপুর শহরের কলেজ রোডের ১ নম্বর শকুনি এলাকার নেছার উদ্দিন মুন্সির ছেলে সার্বিক পরিবহণের সহকারী (হেলপার) পান্নু মুন্সি (৫০), একই উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের জসিম বেপারীর ছেলে ইজিবাইক চালক সাগর বেপারী (২৫), গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার জয়ন্ত বিশ্বাসের স্ত্রী কামনা বিশ্বাস (৪০)। বাকি নিহতদের নাম পাওয়া যায়নি।

আহতদের মধ্যে একজনের নাম পাওয়া গেছে। আহত হলেন অটোবাইকের যাত্রী মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের ঘটকচর এলাকার শাহ আলমের ছেলে রুমান (২৫)। বাকী আহতদের নাম পাওয়া যায়নি। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ও প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুরের অংশটি মরণফাদে পরিণত হয়েছে। এখানে প্রায় সড়ক দুর্ঘটনা হয়েই থাকে। এই মহাসড়কটি দ্রুত উন্নতিকরণ করা দরকার। তা না হলে এই মৃত্যুর মিছিল বাড়তেই থাকবে।

মাদারীপুরের মোস্তফাপুর হাইওয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন আল রশিদ বলেন, মাদারীপুর থেকে সার্বিক পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাস ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। মাঝপথে সদর উপজেলার ঘটকচর এলাকায় আসলে সামনে থাকা একটি ইজিবাইককে চাপ দেয়। এতে ঘটনাস্থলে ইজিবাইকের তিন যাত্রীসহ ৭ জনের মৃত্যু হয়। আহত হয়েছে প্রায় ১০ জন। খবর পেয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ উদ্ধার অভিযান করেন। দুর্ঘটনায় পর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।

মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রেকার দিয়ে বাসটি পাড়ে তোলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের ওই অংশে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে।

(এএসএ/এএস/জানুয়ারি ১৯, ২০২৬)