পর্দা নামলো ঢাকা চলচ্চিত্র উৎসবের, সেরা পুরস্কার যাদের হাতে
বিনোদন ডেস্ক : নান্দনিক চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী আর মননশীল দর্শকের মিলনমেলার মধ্য দিয়ে পর্দা উঠলো ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ২৪তম আসরে। ‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’ স্লোগান নিয়ে এ উৎসব শুরু হয়েছিল ১০ জানুয়ারি।
এবার বাংলাদেশ প্যানারোমা সেকশনে (পূর্ণদৈর্ঘ্য) সেরা সিনেমার পুরস্কার পেয়েছে আকাশ হক পরিচালিত বাংলাদেশি সিনেমা ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’। এশিয়ান কম্পিটিশনে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতেছে এরকে ঝুমাকমাতোভা ও এমিল আতাগেলদিয়েভ নির্মিত কিরগিজস্তানের সিনেমা ‘কুরাক’।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠান। সেখানেই সেরা সিনেমাসহ অন্যান্য বিভাগে পুরস্কারজয়ী সিনেমার নাম ঘোষণা করা হয়।
সমাপনী আয়োজনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চীনের কালচারাল কাউন্সিলর লি শিয়াও পেং, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ মার্ক সেরে শার্লেট, অ্যালিয়স ফ্রঁসেজ এর ডিরেক্টর ফ্রাঁসোয়া শঁব্রো। আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গসহ দেশি-বিদেশি জুরি সদস্য, চলচ্চিত্র নির্মাতা, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা।
সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও উৎসব কমিটির নির্বাহী সদস্য জালাল আহমেদ।
এবারের আয়োজনে এশিয়ান ফিল্ম কম্পিটিশন, রেট্রোস্পেকটিভ, ওয়াইড অ্যাঙ্গেল, বাংলাদেশ প্যানোরমা, সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড, চিলড্রেন ফিল্ম সেশন, ওমেন ফিল্মমেকার বিভাগ, শর্ট অ্যান্ড ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম, স্পিরিচুয়াল ফিল্ম এবং ওপেন টি বায়োস্কোপ এই দশ বিভাগে সিনেমাকে সম্মাননা জানানো হয়।
সেরা চিত্রনাট্যকার নির্বাচিত হয়েছেন দাস্তান মাদালিয়েভ ও আইজাদা বেকবালায়েভা কিরগিজস্তানের চলচ্চিত্র ওটি (বার্নিং) এর জন্য, নির্মাতা রাদিক এশিমভ।
সেরা চিত্রগ্রহণ পুরস্কার পেয়েছেন জোলান্টা ডাইলেভস্কা, কাজাখস্তানের আবেল চলচ্চিত্রে তার কাজের জন্য; সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন এলজাত এসকেন্দির।
একই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতা হয়েছেন ইয়্যারলান তুলেউতাই। সেরা অভিনেত্রী নির্বাচিত হয়েছেন ফারিবা নাদেরি, ইরানের ইব্রাহিম ইরাজজাদ পরিচালিত শোহার-ই-সেতারেহ (দ্য হাজব্যান্ড) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য।
এ ছাড়াও বিভিন্ন বিভাগে সম্মাননা পাওয়া সিনেমার মধ্যে সেরা দর্শক পুরস্কার অর্জন করেছে চীনা নির্মাতা সিন ঝু পরিচালিত ‘শি জিয়ে রি চু এসএইচআই’। সিনেমাটির ইংরেজি নাম অল কোয়ায়েট অ্যাট সানরাইজ। সেরা দর্শক পুরস্কার পেয়েছে শেখ আল মামুন পরিচালিত বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ‘ড্রেইন্ড বাই ড্রিমস’।
শিশু চলচ্চিত্র বিভাগে বাদল রহমান স্মৃতি পুরস্কার পেয়েছে চেন কুনহৌ পরিচালিত চীনা চলচ্চিত্র ‘চিংতং অ্যান্ড কুইহুয়া’। ওয়াইড অ্যাঙ্গেল বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছে এস্তোনিয়া, জার্মানি ও লাটভিয়ার যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র এমালোভি (লায়োনেস), নির্মাতা লিনা ট্রিশকিনা ভানহাতালো। নারী নির্মাতা বিভাগে বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে ফিলিপাইনের এডিথা কাদুয়ায়ার ‘সা লিকোদ এনগ সাপা’।
সেরা প্রামাণ্যচিত্র পুরস্কার অর্জন করেছে জার্মানি, পর্তুগাল ও রোমানিয়ার যৌথ প্রযোজনার লিটল সিরিয়া, নির্মাতা মাদালিনা রোস্কা ও রিম কার্সলি।
উৎসবে বাংলাদেশ প্যানোরামা ট্যালেন্ট বিভাগে দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছে আবির ফেরদৌস মুখার পরিচালিত ‘ইশপিতে’, প্রথম রানারআপ নির্বাচিত হয়েছে উম্মিদ আশরাফ পরিচালিত ‘ধেত!’। ফিপ্রেসকি বাংলাদেশ পুরস্কার পেয়েছে তানহা তাবাসসুম পরিচালিত ‘হোয়াট ইফ’।
সমাপনী অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত আয়োজনে গান পরিবেশন করেন সংগীতশিল্পী আহমেদ হাসান সানি।
(ওএস/এএস/জানুয়ারি ১৯, ২০২৬)
