ডোমরাকান্দি নুরুল ইসলাম মাদ্রাসা
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ
তুষার বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ডোমরাকান্দি নুরুল ইসলাম ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে জনবল নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।নিয়োগ পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস, নিয়োগে আর্থিক লেনদেন, পদ পরিবর্তন করে নিয়োগ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলেছেন ওই প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি আনিচুর রহমান।
এ ব্যাপারে তিনি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে- মাদ্রাসায় ল্যাব বা বিজ্ঞান বিভাগ না থাকা সত্ত্বেও, শুধুমাত্র আর্থিক সুবিধা নিতে অধ্যক্ষ জাকারিয়া ল্যাব সহকারীর পদ সৃষ্টি করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন।
অভিযোগ রয়েছে- নিয়োগ পরীক্ষার আগেই পছন্দের প্রার্থীদের কাছে প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হয়েছে। যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীদের বাদ দিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মিতালী খানম নামে এক প্রার্থী গবেষণাগার-ল্যাব সহকারী পদে আবেদন করলেও তাকে বিধিবহির্ভূতভাবে কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে রিপন মোল্যা নামে এক প্রার্থী নিয়োগ পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পেলেও তাকে নিয়োগ না দিয়ে মারুফ ও মুজাহিদ নামে অন্য দুই প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মাদ্রাসা গভর্নিং বডির সভাপতি আনিচুর রহমান বলেন, ‘অধ্যক্ষ এককভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এ অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। এখানে মেধার কোনো মূল্যায়ন হয়নি, হয়েছে টাকার খেলা। আমি এ অবৈধ নিয়োগ বাতিল করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি।’
অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে অধ্যক্ষ মো. জাকারিয়া বলেন, ‘ডিজির প্রতিনিধির উপস্থিতিতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরীক্ষার দিন আমি নিরব ভূমিকায় ছিলাম। আমার সামনে যা হয়েছে, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। পরবর্তীতে পিছন দিয়ে কি হয়েছে, সেটা আমি জানি না।’
(টিবি/এসপি/জানুয়ারি ১৯, ২০২৬)
