রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সরস্বতী পুজামণ্ডপে সাউণ্ডবক্স বন্ধ করতে রাজী না হওয়ায় মন্দিরে ঢুকে এক কর্মকর্তাকে দা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নূরনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ কুলতলী রামচন্দ্রপুর রাধা গোবিন্দ মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও বিজিবি এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ওই এলাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

দক্ষিণ কুলতলী রামচন্দ্রপুর রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি অশোক কুমার মণ্ডল জানান, ১৬ বছর ধরে তারা ওই মন্দিরে সরস্বতী পুজা শেষে পদাবলী কীর্তণ গান পরিবেশন করে আছেন। এবারও শুক্রবার সরস্বতী পুজা শেষে শনিবার শিবযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দুই বছর আগে কালিগঞ্জের বালিয়াডাঙা থেকে কুখ্যাত চোরাকারবারি আরিফ হোসেন গুলি তাদের গ্রামের মনোরঞ্জন মণ্ডলের দুই বিঘা জমি কিনে বসবাস করার পর থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের যে কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠান বন্ধ করার চেষ্টা করে আসছিল। এমনকি গত বছর সরস্বতী পুজার পরদিন পদাবলী কীর্তণ চলাকালে মাইক বন্ধ না করায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয় আরিফ হোসেন গুলি।

দক্ষিণ কুলতলী রামচন্দ্রপুর রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি সুজন কুমার জোয়ারদার জানান, সরস্বতী পুজা চলাকালে শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে আরিফ হোসেন বুলি তাকে সাউণ্ড বক্সের জোর কমাতে বলেন। জোর কমানোর পরও সে খুশী না হওয়ায় ১০টার দিকে সে একটি ধারালো রাম দা ও একটি চাপাতি নিয়ে মন্দিরের মধ্যে ঢুকে পড়ে। একপর্যায়ে তাকে লক্ষ্য করে কোপ দিতে গেলে তিনি দৌড়ে পালাতে থাকেন। আরিফ ইসলাম গুলি তাকে ধাওয়া করে।

একপর্যায়ে শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক সজীব এর নেতৃত্বে পুলিশ ও দুরমুজখালি বিজিবি ক্যাম্পের কোঃ কমাণ্ডার আব্দুল লতিফের নেতৃত্বে টহলরত বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে এলে গুলি পালিয়ে যায়। তবে গুলির ফেলে যাওয়া চাপাতিটি উদ্ধার করে পুলিশ নিয়ে যায়। বর্তমানে বিজিবি এলাকায় টহল দিচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, আরিফ হোসেন গুলির নেতৃত্বে এলাকায় একটি চোরাচালানি চক্র সক্রিয়। গুলির নামে অনেক মামলা রয়েছে কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর থানায়। বালিয়াডাঙার সন্ত্রাসী ইয়ার আলী ও বাহার আলী চক্রের সদস্য সে। বিজিবিকে ম্যানেজ করেই সে তার চোরাচাালানি সিন্ডিকেড নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

নূরনগর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম আলমগীর ও ৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য শহীদুল ইসলাম জানান, আরিফ হোসেন গুলি যেভাবে সুজন জোয়ারদারকে রাম দা নিয়ে ধাওয়া করেছিল তা যথেষ্ট বিপজ্জনক ছিল। তবে বর্তমানে বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

বিজিবি’র বুড়িগোয়ালিনি ১৭ ব্যাটালিয়নের অন্তর্গত দুরমুজখালি ক্যাম্পের কোম্পানী কমাণ্ডার সুবেদার আব্দুল লতিফ জানান, পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আধ ঘণ্টার মত পুজা বন্ধ ছিল।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ খালেদুর রহমান জানান, পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

(আরকে/এএস/জানুয়ারি ২৩, ২০২৬)