রিপন মারমা, রাঙ্গামাটি : রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা খ্রীষ্টিয়ান হাসপাতালের উদ্যোগে আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব এবং চট্টগ্রামের জনপ্রিয় 'পোট্রেট'-এর ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। 

আজ শনিবার দিনব্যাপী নানা বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই উৎসব উদযাপিত হয়।

ঐতিহ্যের স্বাদ ও সৃজনশীলতার লড়াই চন্দ্রঘোনা খ্রীষ্টিয়ান হাসপাতাল হলরুমে আয়োজিত এই উৎসবে মোট ১২টি স্টল তাদের নান্দনিক পসরা সাজিয়ে বসে। গ্রাম-বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় নকশি পিঠা, পুলি, চিতই, ভাপা পিঠাসহ নানা মুখরোচক ও সৃজনশীল পিঠার প্রদর্শনী চলে।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া স্টলগুলোকে পিঠার স্বাদ, সাজসজ্জা এবং বৈচিত্র্যের ওপর ভিত্তি করে বিচারকগণ মুল্যায়ন করেন।পিঠা উৎসবে প্রথম স্থান অর্জন করেন,ডক্টর’স কিচেন,দ্বিতীয় স্থান: সাতরং তৃতীয় স্থান: অন্যরকম চতুর্থ স্থান: নবান্ন পিঠা বাড়ি।

পোট্রেটের ৩৬ বছর ও সাংস্কৃতিক আয়োজন

পিঠা উৎসবের পাশাপাশি ‘পোট্রেট’-এর ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম থেকে আগত অতিথিদের নিয়ে একটি আনন্দ ভ্রমণ ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ৩৬ বছরের দীর্ঘ পথচলাকে স্মরণীয় করে রাখতে কেক কাটা ও স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় ও আমন্ত্রিত শিল্পীদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।

পিঠার উৎসব

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. দেলোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন, বিপ্লব মারমা এবং পুরো অনুষ্ঠানটি সাবলীলভাবে সঞ্চালনা করেন ডা. প্রবীর খিয়াং।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. রুহুল আমিন বলেন, "ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে এ ধরনের আয়োজন আমাদের শেকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিক মেলবন্ধনে চন্দ্রঘোনা খ্রীষ্টিয়ান হাসপাতালএবং পোট্রেটের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।"

উৎসবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, পোট্রেটের সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। শীতকালীন এই বর্ণিল আয়োজনে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

(আরএম/এসপি/জানুয়ারি ২৪, ২০২৬)